গভর্নিং বডির দ্বন্দ্বে ভাস্কর্য ভাঙচুর!

বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর ঘটনায় যুবলীগের তিন নেতাকর্মী গ্রেফতার

কুষ্টিয়ায় বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ ইউপি যুবলীগের সভাপতিসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলেন কুমারখারী উপজেলার কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান (৩৫), যুবলীগের কর্মী হূদয় আহম্মেদ (২০) ও সবুজ হোসেন (২০)। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত গতকাল শনিবার তার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এদিকে কয়া কলেজের গভর্নিং বডির দ্বন্দ্বে ভাস্কর্য ভাঙচুর            করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ জানায়, কয়া কলেজের গভর্নিং বডি গঠন নিয়ে যুবলীগের সভাপতি আনিসুরসহ স্থানীয়দের একটি গ্রুপের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে এক পক্ষ প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, ১৮ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে যুবলীগের নেতা আনিস ও তার চার সহযোগী ভাস্কর্য চত্বরের সামনে গল্প-আড্ডার ছলে অবস্থান করছিলেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা রাত ১টার দিকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে বাঘা যতীনের ভাস্কর্যটি ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধনের পর পালিয়ে যান। কয়া কলেজের গভর্নিং বডি গঠন নিয়ে পূর্বদ্বন্দ্বের জের ধরে ভাস্কর্যটি  ভাঙচুর করা হয় বলে স্বীকারোক্তিতে ধৃতরা পুলিশকে জানিয়েছেন। এদের সবার বাড়ি কয়া কলেজ-সংলগ্ন রায়ডাঙ্গা গ্রামে। এ ঘটনায় জড়িত বাচ্চু (৩২) নামের আরেকজন আত্মগোপন করেছেন। পুলিশ তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে মামলাটির ক্লু উদ্ধারে অগ্রগতি হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

এদিকে ১৮ ডিসেম্বর সকালে আটক গভর্নিং বডির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিজামুল হক চুন্নু, অধ্যক্ষ হারুন-অর-রশীদ ও নৈশপ্রহরী খলিলুর রহমানকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে। তবে ভাস্কর্য চত্বরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বৈদ্যুতিক বাতি সংযোগ ও নিরাপত্তায় কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও চরম গাফিলতি ছিল বলে পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত জানান।

ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় গত শুক্রবার বিকালে কয়া কলেজের অধ্যক্ষ হারুন-অর রশীদের দায়ের করা মামলায় আসামিদের গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। যুবলীগের গ্রেফতারকৃত সভাপতিসহ ধৃত ঐ তিন জনকে রিমান্ডে এনে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে কয়া কলেজের পক্ষ থেকে নিন্দা প্রস্তাব করা হয়। গতকাল শনিবার সকালে কলেজের হলরুমে শিক্ষকমণ্ডলীর উপস্থিতিতে আয়োজিত সভায় ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করেন অধ্যক্ষ হারুন-অর রশিদ। এছাড়া কুষ্টিয়া জেলা জাসদের পক্ষ থেকে শহরের প্রধান সড়কে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

কুমারখালী থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, ভাস্কর্য ভাঙচুর মামলার অনেক অগ্রগতি হয়েছে। খুব শিগিগর সব আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে ওসি জানান। 

উল্লেখ্য, ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার অন্তর্গত কয়া কলেজের মেইন গেটের সামনে স্থাপিত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের যোদ্ধা বিপ্লবী বাঘা যতীনের আবক্ষ ভাস্কর্যটি দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করে।

যুবলীগের সভাপতি বহিষ্কার

এদিকে বাঘা যতীনের ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতারকৃত যুবলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিসকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কুমারখালী উপজেলা যুবলীগের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিসকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।