যৌতুক না দেয়ায় রাতভর স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ ঢাবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন শেখ রাসেল টাওয়ারে বাসা বরাদ্দ পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের সিনিয়র এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মো: নুরুজ্জামান। নতুন বাসায় ওঠার জন্য পরিকল্পনা করছিলেন নতুন নতুন আসবাবপত্র কেনার। কিন্তু এসব আসবাবপত্র ক্রয় করতে স্ত্রীর পিতা-মাতার কাছ থেকে যৌতুক হিসেবে টাকা আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে চাপ দিচ্ছিলেন নুরুজ্জামান। সর্বশেষ টাকা দিতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনায় রবিবার (২০ ডিসেম্বর) উপাচার্য বরাবর আবেদন করবেন বলেও জানান আফসানা হোসেনের মা আনজুয়ারা পারভীন। 

নুরুজ্জামানের স্ত্রী আফসানা হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১১ সালে বিয়ে হয় তাদের। 
আফসানা বেগমের মা আনজুয়ারা ইত্তেফাককে জানান, নুরুজ্জামান ঘরের ফার্নিচার কেনার জন্য যৌতুক দাবি করেছিল। নতুন কোয়ার্টার পেয়েছে, নতুন কোয়ার্টার ফার্নিচার দিয়ে সাঁজাতে হবে। সেজন্য অনেক টাকার দরকার, বাপের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে দিতে হবে। এসব বলে কালকে (বৃহস্পতিবার) রাত্রে তাকে মেরেছে। 

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মেয়েটারে ফ্লোরে ফেলায়ে বুকের উপর পা দিয়ে পাড়ায়েছে। তাকে বুকের উপর পিঠের উপরে মাইরেছে। মেয়েটার মরে যাওয়ার অবস্থা। পরে খবর পেয়ে আমরা রাতের বেলায় দুটো বাচ্চাসহ নিয়ে এসেছি।’

আরো পড়ুন: জাতীয় পতাকা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বেরোবির দুঃখপ্রকাশ

যৌতুক হিসেবে এ পর্যন্ত আড়াই লাখেরও বেশী টাকা দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, টাকা পয়সা কিছু দিয়েছি ইতোমধ্যে। গত সপ্তাহে একটি সোফা কেনার জন্য ৫০-৬০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। এর আগেও বিশ হাজার দিয়েছি, তাতেও হয়না। মেয়ের হাত খরচ, কাপড়, ওষুধ-পত্র সবই দেই তারপরও হয়না। বিয়ের পর থেকে সব সময় সে খারাপ ব্যবহার করে এসেছে। আজ নয় বছর সবকিছু সহ্য করে এসেছি। তার বন্ধু-বান্ধব অনেক। তার অনেক আলিশান। এমনিতে বিয়ের সময় লাখ দুয়েক টাকা উঠায়ে নিছে। তারপরে মেয়েরে দিছি, মেয়ের পেছনে খরচ করতেছি। গন্ডগোল সবসময় হয়েছে, প্রথম বাচ্চাটা নিয়েছে, দ্বিতীয় বাচ্চা নিয়ে এখন সে ওপেন টর্চারিং শুরু করে দিয়েছে। চাকরি করার ইচ্ছেও ছিলো আফসানার। স্বামী নুরুজ্জামানের কারণেই চাকরি করতেও পারেননি তিনি। 

তিনি বলেন, তার কারণেই আমি জবটা নিতে পারেনি। এর জন্য সে আমাকে কথা শোনাতো, চাকরির জন্য ট্রাইও করতে দিতো না। আমাকে পড়া-শোনা করতে দিতো না। চাকরির জন্য যে ধরনের কারিকুলাম প্র্যাকটিস করা প্রয়োজন তাও দিতো না। আমার চাকরি নিতে যে সময় লাগে বা যে পড়াশোনা করা লাগে ওই সময় না দিলে আমিতো জবটা নিতে পারবো না। ভাইবা বোর্ডে আমি ভালো করতেছি কিন্তু চাকরি নিতে পারছি না। আমি ‘হার্ট এন্ড সোল’ ট্রাই করছি কিন্তু চাকরি নিতে পারছি না। 

এ বিষয়ে নুরুজ্জামানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি পারিবারিক বিষয় বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, এসব পারিবারিক বিষয়, এসব বিষয় না বলাই ভালো।  তার আশেপাশে লোক আছে, তাদের সামনে তিনি বলতে পারবেন না বলে জানান। 

ঘটনার বিষয়ে অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: হাসানুজ্জামান বলেন, মেয়েটি আমাকে ঘটনা জানিয়েছে। আমার তো কোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই। আমি তাকে উপাচার্য বরাবর অভিযোগপত্র দিতে বলেছি।


ইত্তেফাক/এমএএম