প্রত্যেক মানুষের শখ বা নেশা কোনো শেষ নেই। তেমনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা পড়ার নেশায় পড়ছেন পল্লী চিকিৎসক ফজলুল হক দেওয়ান। রোগীর চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতোই ইত্তেফাক না পড়লে তৃপ্তি পান না তিনি।
দীর্ঘ ৫২ বছর যাবৎ নিয়মিত দৈনিক ইত্তেফাক পড়ছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলাদীপুর বাজারের পল্লী চিকিৎসক মো. ফজলুল হক দেওয়ান (৬৫)। তিনি আলীপুর ইউনিয়নের আহলাদীপুর গ্রামের মরহুম মহরম আলী দেওয়ান ছেলে।
রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া মহাসড়কের আলাদীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মার্কেটের দেওয়ান ফার্মেসি তার। দোকানে প্রতিদিন তিনি ইত্তেফাক পত্রিকাটি রেখে রোগী দেখার শত ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে পড়েন। তিনি একাই নন বাসায় তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়েরা সবাই ইত্তেফাক পড়েন।
জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে তিনি যখন ৮ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন ওই সময় আলাদীপুর গ্রামের হোমিও ডাক্তার সুব্রত কুমার বিশ্বাসের বাড়িতে নিয়মিত যাওয়া আসার মধ্যে দিয়েই তিনি ইত্তেফাক পত্রিকার পাঠক। তার বাবাও ইত্তেফাক পত্রিকার পাঠক ছিলেন। সেই থেকে আর ইত্তেফাক পড়া বন্ধ হয়নি। ১৯৭৫ সালে রাজবাড়ী সরকারি কলেজে মানবিক বিভাগ থেকে এইচ.এস.সি এবং পরবর্তিতে গোয়ালন্দ উপজেলাতে পল্লী চিকিৎসকের ২ বছর ট্রেনিং করি। ট্রেনিং এ থাকা অবস্থায় গোয়ালন্দে বেবী ফার্মেসি নামক আলাউদ্দিন ভাইয়ের দোকানে গিয়েও ইত্তেফাক পড়তাম।
পল্লী চিকিৎসক মো. ফজলুল হকের স্ত্রী রেহেনা আক্তার বলেন, সময়টা ২০১৫ সালে পল্লী চিকিৎসক মো. ফজলুল হক দেওয়ান আমার (স্বামী) হার্ট অ্যার্টাক করে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। যখন তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইউ থেকে বের করে বিছানায় দেওয়া হয় ঠিক তখনই আমাকে বলে একটা ইত্তেফাক পত্রিকা এনে দাও। ওই দিন ছিলো আরবি রমজান মাসের ২৭ রোজা। আমি রোজা থাকা অবস্থায় বারডেম হাসপাতালের পাশের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে দোকানে ঘুরি একটা ইত্তেফাক পত্রিকার খোজে। অনেক খোজা খোজির পর একটি দোকানে ইত্তেফাক পত্রিকার ভিতরের ১টি পৃষ্টা খুজে পাই। আমি ওই পৃষ্ঠাটা চাইলে, ওষুধ দোকানদার আমাকে জিজ্ঞাসা করে একটি পৃষ্ঠা দিয়ে কী করবেন? তাকে বলেছিলাম- আমার স্বামী প্রতিদিন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা পড়েন। তিনি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আইসিইউ থেকে বের হয়ে বার বার এই পত্রিকা খুজতেছেন। তারপর আমি পত্রিকার পৃষ্ঠা নিয়ে আমার স্বামীকে নিয়ে দেই। তিনি মনোযোগ সহকারে সেদিনও পত্রিকাটি করেন। ইত্তেফাক না পড়লে তৃপ্তি পান না তিনি।
পল্লী চিকিৎসক ফজলুল হক জানান, আশির দশকে দিকে পত্রিকা ছাপা হওয়ার একদিন পরে পাঠকদের হাতে পৌঁছতো। এই ইত্তেফাক পত্রিকা পড়েই আমি নিজেকে পেশাগত দিকে উৎকর্ষ সাধন করেছি। নিয়মিত ইত্তেফাক পত্রিকা পড়ার মধ্যে দিয়ে আমার লেখা ‘ মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষা সময় বৃদ্ধি’ ও সূর্যমূখী চাষে দেশের ভাজ্য তেলের ঘাটতি পূরণের দাবি’ সহ চিঠি কলামে কয়েকটি লেখাও প্রকাশিত হয়।
কেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকাটি আপন করে নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, ইত্তেফাক একটি স্বাধীনতার পক্ষের পত্রিকা। স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বিভিন্ন আন্দোলনে ইত্তেফাকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ পত্রিকাটি কোন মিথ্যা কল্পকাহিনী দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে না। পত্রিকাটি সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলে বলেই ইত্তেফাক পাঠকের মন জয় করেছে। সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয়, বিষয় ভিত্তিক ফিচার সংবাদ ও বিভিন্ন সম-সাময়িক বিষয় নিয়ে কলামগুলো তার বেশি ভাল লাগে বলে জানান তিনি। ইত্তেফাক যেন অতীতের গৌরব রক্ষার্থে পেছপা না হয় সে জন্য সম্পাদকের সজাগ থাকার অনুরোধ জানান। তিনি ইত্তেফাকের দীর্ঘায়ু ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। দৈনিক ইত্তেফাকের ৬৮ বছর পূর্তিতে তিনি ইত্তেফাক পরিবারের সবাইকে অভিনন্দন জানান।
ইত্তেফাক/কেকে