রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় ফাঁসির দণ্ড থেকে মুক্ত হয়ে মামলার বাদি-সাক্ষীদের হুমকির অভিযোগ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের শহিদ মাতুব্বর হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে বের হয়ে বাদি ও সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে সদরপুর যুবলীগের সাবেক সভাপতি আলোচিত আসলাম ফকিরের বিরুদ্ধে। হুমকির ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা ও হত্যা মামলার সঠিক বিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। অভিযুক্ত আসলাম ফকির এর আগে মানিকদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ড থেকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তি পেয়েছিলেন। 

রবিবার বেলা ১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনের মুজিব সড়কে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মো. শাহজাহান মাতুব্বর, আব্দুল হামিদ মাতুব্বর, এস্কেন শেখ, রাশেদ শেখ, এরশাদ শেখ, সিদ্দিক মাতুব্বর প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, গত ২১ এপ্রিল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সদরপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আসলাম ফকিরের নির্দেশে ও নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক লোক শহীদ মাতুব্বরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুন, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এই ঘটনায় ২২ এপ্রিল ভাঙ্গা থানায় মামরা দায়ের হলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে বিশেষ অভিযানে যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আসলাম ফকিরকে আটক করে র‌্যাব। অন্য আসামীদেরও বিভিন্ন সময়ে আটক করে পুলিশ। দেড় মাস জেলে থেকে আদালত থেকে জামিনে বের হয় আসামিরা বাদি ও সাক্ষীদের হুমকি দিয়ে আসছে। তাদের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারগুলো। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী।

আরো পড়ুন: স্বপ্নগুলো পড়ে থাকলো রেললাইনের ওপরেই

কে এই আসলাম ফকির

আসলাম ফকির সদরপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি। তিনি ২০০৩ সালে মানিকদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম শাহেদ আলী হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। সেই মামলা নিম্ন ও উচ্চ আদালতে আসালাম ফকিরের ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু মানসিক ভারসাম্যহীন তকমা লাগিয়ে ফাঁসির একদিন আগে দ্বিতীয় দফা আবেদন করে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় জেল থেকে ছাড়া পান তিনি। এলাকায় ফিরে আসার কিছু দিনের মধ্যেই ঘটে শহীদ হত্যাকাণ্ড।

ইত্তেফাক/এসি