বিশেষ প্রতিনিধি
এক দশক আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ে পাঁচ বছরের শিশু খন্দকার সামিউল আজিম ওয়াফিকে হত্যার ঘটনায় তার মা আয়েশা হুমায়রা ওরফে এশা ও তার প্রেমিক শামসুজ্জামান বাক্কুর ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে দুই আসামির প্রত্যেককে অপর এক ধারায় ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকার বিশেষ জজ-৪ শেখ নাজমুল আলম এ রায় দেন। আসামি দুজনই পলাতক থাকায় রায় ঘোষণার সময় কেউ উপস্থিত ছিলেন না। জামিনে থাকা এশা গত ২৩ নভেম্বরের পর আর আদালতে হাজির হননি। ঐ দিনই আদালত জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। অপরদিকে, বাক্কু হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পলাতক হন। গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই আদালত রায়ের জন্য ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছিল। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আদালত ২০ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ‘এশা ও বাক্কু তিন বছর ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন। সামিউল ছিল এশার একমাত্র সন্তান। সে তার মায়ের ঐ সম্পর্কের বিষয়ে জানত, সে কারণে এশা তার সন্তানের মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বাক্কুকে প্রলুব্ধ করে। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সামিউলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। মামলার ভিকটিম একজন নির্দোষ শিশু হওয়ার পরেও হত্যার হাত থেকে কোনো অনুকম্পা বা ক্ষমা পায়নি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত্।’
সামিউলের বাবা কে আর আজমের বন্ধু ও ব্যক্তিগত আইনজীবী ইসলাম উদ্দিন বিশ্বাস এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর ফারুক উজ্জামান ভূঁইয়া মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে সামিউলের পরিবারের কেউ রায়ের সময় আদালতে ছিলেন না, ছিলেন না পলাতকদের আইনজীবীরাও।
পরকীয়া প্রেমিক শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কুর সঙ্গে মায়ের অনৈতিক কোনো ঘটনা দেখে ফেলায় ২০১০ সালের ২৩ জুন প্রথমে সামিউলকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গুম করতে ফ্রিজে ঢোকানো হয়। পরে মরদেহটি বস্তায় ঢুকিয়ে ২০১০ সালের ২৪ জুন রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। সামিউল রাজধানীর মোহাম্মদপুর নবোদয় হাউজিংয়ের গ্রিনউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্লে-গ্রুপের ছাত্র ছিল।
গত ২৪ জুন সামিউলের মরদেহ আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা কে এ আজম বাদী হয়ে ২৪ জুন আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এশা এবং বাক্কু উভয়ই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।