তানোরে বায়ার কোম্পানির ওষুধ স্প্রে করার পর পুড়ে গেছে অধর্শত প্রান্তিক কৃষকদের শত শত বিঘা জমির আলু গাছ। শনিবার রাতে বায়ার কোম্পানির কর্মকর্তারা ডিলারদের নিয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের লক্ষ্যে সভা করেছে। সভায় কৃষি কর্মকর্তা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কয়েক জন উপস্থিত ছিলেন।
তানোর উপজেলার শুকদেবপুর গ্রামের প্রান্তিক আলু চাষি শামিম হোসেন বলেন, এ বছর তিনি সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। সব ধরনের মড়ক থেকে আলুকে রক্ষার জন্য শুক্রবার তিনি বায়ার কোম্পানির ওষুধ জমিতে স্প্রে করেন। কিন্তু পরের দিন সকালে জমিতে গিয়ে দেখেন স্প্রে করা জমির সবগুলো আলুর গাছ পুড়ে গেছে। একই কথা বলেন একই গ্রামের আসমত আলী।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, গোল্লাপাড়া বাজারের সৈয়ব আলী ট্রেডার্সের মালিক সৈয়ব আলী বায়ার কোম্পানির ডিলার। তার মাধ্যমেই বায়ার কোম্পানির ‘এন্টাকল’ নামক প্রতিষেধক ওষুধ জমিতে স্প্রে করার পর ৫০ থেকে ৬০ জন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র আলু চাষির শত শত বিঘা জমির আলুগাছ পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিরা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের আশায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভার সত্যতা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যোগাযোগের চেষ্টা করেও তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, চাষিদের ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া আলুগাছ পুড়ে যাওয়ার পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে কি না সেটাও উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।