ইসি নিয়ে ৪২ বিশিষ্ট নাগরিকের চিঠি

৪২ বিশিষ্ট নাগ-রিকের সাম্প্রতিক অভিযোগ উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং এসব অভিযোগের কোনোটির ভিত্তি আছে বলে মনে করছেন না নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এমন একটি বিষয় উপস্থাপন করা সুধীজনদের জন্য বিবেচনা প্রসূত নয়। বিশিষ্টজনেরা যা বলেছেন, সেই ব্যাপারে আমার তেমন কিছু বলার নেই। যেহেতু উনারা অভিযোগগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করেছেন, এখন রাষ্ট্রপতি সেটি নিয়ে কী করবেন সেটা তার ব্যাপার। আমি যা বলছি তা ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া, কমিশনের বক্তব্য নয়।

রাষ্ট্রপতির কাছে বর্তমান কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের বিরুদ্ধে ৪২ বিশিষ্ট নাগরিকের গুরুতর অসদাচারণ, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন। গতকাল রবিবার বিকালে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে ব্রিগেডিয়ার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রথমত দু-একটি গণমাধ্যমের সংবাদের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের অভিযোগ তারা করেছেন। প্রশিক্ষণ ও গাড়ি ব্যবহার নিয়ে যেসব সংবাদ পত্রিকায় ছাপা হয়, সেগুলোতে বাস্তব অবস্থা জানিয়ে প্রতিবাদপত্র দিয়েছিলাম। জানি না সেই প্রতিবাদ তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছিল কী না।

দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশনারদের যেভাবে গাড়ির ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে, সেইভাবে গাড়ি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমার মনে হয় না। প্রাধিকারের গাড়ি কমিশনের শপথ নেওয়ার তিন বছর পর পেয়েছি। যেসব গাড়ি দিয়েছে সেগুলোকে লাক্সারি বলা হচ্ছে। এসব গাড়ি ইউএনওরাও ব্যবহার করছেন। বাড়তি গাড়ি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আমারও নেই, আমার মনে হয় অন্য কমিশনারদেরও নেই।

এই নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, সবচেয়ে যে বিষয়টা পীড়াদায়ক সেটি হচ্ছে, একদিকে রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ করলেন, আবার অন্যদিকে আমাদেরও অভিযুক্ত  করে ফেললেন। শুধু সেটা নয়, আমাদের কী করণীয় বা দণ্ড একঅর্থে সেটা দিয়ে দিলেন। এটা কতটা বিবেচনা প্রসূত ও শিষ্টাচারবর্জিত কী না, সেটা আপনাদের ওপরই বিবেচনার ভার দিলাম। হয়তোবা কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এসব অভিযোগের কোনোটির ভিত্তি আছে বলে আমি মনে করি না। 

অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন কী না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবে কোনো বিষয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বলতে চাই না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। কী উদ্দেশ্যে—উনারা ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমি বলতে পারব না। যোগসূত্র খুঁজতে যাবো না, এটা আমার কাজ না। উনারা রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করেছেন, সেখানে আমাদের কোনো প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সুযোগ নেই।

মানহানি ও আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন কী না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সেই ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। উনারা বিশিষ্ট নাগরিক। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের একজন সদস্য হিসেবে আমার ভাষার ততটুকু শালীন রাখা উচিত বলে মনে করি। এখান থেকে উনারা বার্তা নিবেন বলে মনে করি। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসী বার্তা নিবেন।

নির্বাচনি অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট চেষ্টা করছে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য। নির্বাচন কমিশনের যতটুকু করণীয় তার সর্বোচ্চ করে যাচ্ছে। নিয়োগ নিয়ে একজন কমিশনারের অভিযোগের বিষয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। নিয়োগ সচিবালয় দিয়ে থাকে। তবুও যারা অভিযোগ করেছে তারা বলতে পারবে। আমি বলতে পারব না। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, অনেকে নির্বাচন কমিশনে ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ পায়নি, তারাও ক্ষুব্ধ হয়ে এটা করতে পারেন।