সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের সঙ্গে জড়িত প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে) আছেন কানাডায়। করছেন আয়েশি জীবনযাপন। ঐ পাচারের টাকার সন্ধান করতে গিয়ে এবার পি কে হালদারের ৮০ বান্ধবীর তথ্য পেল দুর্নীতি দমন কমিশন। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে এসব বান্ধবীর অ্যাকাউন্টে রয়েছে শত শত কোটি টাকা। আগামী ৩ জানুয়ারি এসব বান্ধবীর তথ্য আদালতে দাখিল করবে দুদক। এদিকে দুর্নীতির মামলায় পি কে হালদারের বিরুদ্ধে জারিকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইন্টারপোলে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই পরোয়ানা আন্তর্জাতিক ঐ সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পি কে হালদারের যেসব বান্ধবীর অ্যাকাউন্টে পাচারের টাকা রয়েছে সেই তথ্য যদি সঠিক প্রমাণিত হয়, তাহলে তারা আসামি হবেন। ইতিমধ্যে দুদকের প্রকাশিত এমন তথ্যে আতঙ্কে রয়েছেন সেই গার্লফ্রেন্ডদের অনেকেই।
প্রসঙ্গত রিলায়েন্স ফিন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকা অবস্থায় আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন পি কে হালদার। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে থাকা ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কৌশলে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত্ করেন তিনি ও তার সহযোগীরা। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ১৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তিনি আত্মসাত্ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব অর্থ নিয়ে তিনি পাড়ি জমান কানাডায়। পরে অক্টোবর মাসে দেশে ফিরতে চান তিনি। কিন্তু হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় দেশে ফিরলে যেন তাকে এয়ারপোর্টে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তিনি দুবাই থেকে আবারও কানাডায় ফিরে যান।
এদিকে পি কে হালদারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা অর্থ আমানত হিসাবে রেখেছিলেন তারা এখন বিভিন্নভাবে তথ্য দিয়ে দুদককে সহযোগিতা করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ঊর্ধ্বতন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এরা পি কে হালদারের পাচারকৃত টাকা কোথায় কোথায় রাখা আছে, তা বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে জেনে দুদককে অবহিত করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, পি কে হালদারের অ্যাকাউন্ট থেকে তার একাধিক গার্লফ্রেন্ডের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রাথমিক তথ্য এসেছে। পি কে হালদারের কারণে দেউলিয়া হতে বসা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভুক্তভোগীদের অনেকেই এসে আমাকে এসব তথ্য দিয়েছেন। এখন এ বিষয়ে তদন্ত হলে যদি গার্লফ্রেন্ডদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর বিষয়টি প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রে তারাও আসামি হবেন। তিনি বলেন, প্রাপ্ত তথ্যে জানতে পেরেছি, তিনি অবিবাহিত। অবিবাহিত থাকার সুবাদে পাচারের কোটি কোটি টাকা পি কে হালদার তার কিছু গার্লফ্রেন্ডের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন। এর সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ জন হতে পারে। এগুলো দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাকে দেব অনুসন্ধানের জন্য। পাশাপাশি এসব তথ্য আদালতে দাখিল করব।
গত ১৮ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘পি কে হালদারকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে দুদক’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পি কে হালদারকে বিদেশ থেকে ফেরাতে দুদকের পদক্ষেপ জানতে চায় হাইকোর্ট। তখন হাইকোর্ট বলে, ‘দেশটা কি মগের মুল্লুক?’