সংযোগ সড়ক নির্মাণ জটিলতায় চালু হচ্ছে না গোন্ডব সেতু

সংযোগ সড়ক নির্মাণ জটিলতায় চালু হচ্ছে না নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া, শালনগর, নোয়াগ্রাম ও কাশিপুর এ চার ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামবাসির স্বপ্নের  গোন্ডব সেতু। নির্ধারিত সময়ের তিন বছর পর সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও উভয়পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে রয়েছে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ। 

ফলে এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই সেতুটি চালু করা যাচ্ছে না। এ কারণে অর্ধশতাধিক গ্রামবাসির পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। সংযোগ সড়কের অভাবে এ সেতুর উভয় পাশে বসবাসকারি জনগনের বর্ষার সময় পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে, আর অন্য সময়ে এ সেতু আসছে না কোন কাজে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) নড়াইলের আওতায় লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গোন্ডব গ্রামে তুষখালী দোয়ার ওপর ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১০ কোটি ১৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৭৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো দেড় বছর পর ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার প্রায় আড়াই বছর পর সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণে সৃষ্টি হয় জটিলতা। সংযোগ সড়ক প্রশস্ত হওয়ায় উভয় পাশে ব্যক্তি মালিকানা জমির প্রয়োজন হয়। কিন্তু ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় জমির মালিকরা আদালতের স্মরনাপন্ন হওয়ায় আটকে যায় সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ। আর এভাবেই পড়ে রয়েছে ১২মাস। সেতুটি চালু না হওয়ায় দীঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ভ্যান, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন চালকদের। যাত্রী ও মালামাল নিয়ে বিকল্প পথে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান এলাকাবাসি। স্থানীয় জমির মালকদের দাবী ন্যায্য মূল্য দিয়ে তাদের জমি অধিগ্রহন করা হোক।

এদিকে সেতুটির নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পিপিএল-এনএকে নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সেতুটি চালু হলে লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া, শালনগর, নোয়াগ্রাম, কাশিপুর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামবাসির নড়াইল জেলা শহরে সরাসরি ও দ্রুত যাতায়াতের সেতুবন্ধন তৈরি হতো।

এ বিষয়ে নড়াইল এলজিইডি’র উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো: মনিরুল ইসলাম বলেন, গোন্ডব সেতুর সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহনের কোন ফান্ড এলজিইডি’র নেই। সেতুটি নির্মানের আগে এলাকাবাসি সড়কের জন্য জমি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন সড়ক করতে গেলে জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন এবং তাদের দাবি পূরণ না হলে জমি দিবেন না বলে আদালতে মামলা করেছেন। এ কারণে সংযোগ সড়ক নির্মান করে সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
 
ইত্তেফাক/এমএএম