একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান

সৃজনশীল প্রশ্ন:বিয়ের পর রীতা বোঝতে পারল তার স্বামী কিছু বর্ণ চিনতে পারে না, শ্বশুর শাশুড়ি কারো মধ্যে এই সমস্যা নেই। রীতা ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি বিষয়টি বুঝিয়ে দেন এবং রীতার সন্তান ছেলে ও মেয়েতে বিষয়টি প্রকাশের সম্ভাবনাও ব্যাখ্যা করেন।

(গ) রীতার স্বামীর রোগের কারণ ও উত্স ব্যাখ্যা করো।        ৩                 

(ঘ) উদ্দীপকের বিষয়টি পুত্র ও কন্যা সন্তানে প্রকাশের সম্ভাবনা ভিন্ন- যুক্তি দ্বারা বিশ্লেষণ

করো।                                                          ৪

গতকালের পর: এ প্রচ্ছন্ন অ্যালীলটি পুরুষে উপস্থিত থাকলেই সে বর্ণান্ধ হবে। এটি একটি জিনগত বংশগতিয় রোগ। পিতা মাতার এ জিন থাকলে সন্তান-সন্ততিতে এটি ক্রমান্বয়ে সঞ্চারিত হয়। সাধারণত: পিতা-মাতার কারো সেক্স ক্রোমোজোমে এ জিন থাকলে তাদের ছেলে-মেয়েদের এ রোগ হয়ে থাকে। রীতার স্বামীর মাতা বর্ণান্ধ বাহক বলে এই রোগ রীতার শাশুড়ি থেকে রীতার স্বামীর দেহে সঞ্চারিত হয়েছে।

(ঘ) উত্তর: উদ্দীপকের বর্ণনা অনুসারে রীতার স্বামী বর্ণান্ধ অর্থাত্ তিনি কিছু বর্ণ চিনতে পারে না। যেহেতু বর্ণান্ধ রোগের জন্য দায়ী জিন হচ্ছে সেক্স-লিংকড প্রচ্ছন্ন অ্যালীল। তাই রীতার স্বামীর এ রোগ তাদের পুত্র সন্তানে প্রকাশের কোনো সম্ভাবনা নেই। সুতরাং তাদের সব পুত্র সন্তানই স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন হবে। অপরদিকে, পিতার এ জিন তার কন্যা সন্তানে প্রবেশ করবে। কেননা, এটি সেক্স-লিংকড জিন কিন্তু প্রচ্ছন্ন এই সেক্স-লিংকড জিনটি কেবলমাত্র হোমোজাইগাস অবস্থায় তার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে। যেহেতু রীতা স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন তাই রীতার কন্যা সন্তানও স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন হবে। কিন্তু তার কন্যাসন্তান বর্ণান্ধ রোগের বাহক হবে এবং কন্যা সন্তানগুলো পিতা থেকে প্রাপ্ত বর্ণান্ধ জিনটি বহন করবে বলে এরা বর্ণান্ধতার বাহক হবে। সুতরাং বলা যায় উদ্দীপকে উল্লেখিত বর্ণান্ধতার বিষয়টি পুত্র ও কন্যা সন্তানে প্রকাশের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।