প্রকৃতি

হেলেঞ্চা

এক রকম জলজ শাক। জলাশয়, ডোবা, নর্দমা, পুকুরের ধারে, অগভীর জলে বা ভেজা মাটিতে জন্মায়। পুকুরে জন্মালে পুকুর ভরে যায় হেলেঞ্চায়। পানিতে ভেসে থাকে। উদ্ভিদটি ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। কাণ্ড বহু শাখা বিস্তৃত, কাণ্ডের প্রতিটি পর্ব থেকে শেকড় বেরোয়। দুটি করে পাতা বের হয় বিপরীতমুখী হয়ে। পাতা ২.৫ থেকে ৭.৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। পত্রফলক বল্লমাকৃতির। পাতার কিনারা খাঁজকাটা।

হেলেঞ্চা, হিঞ্চা, হিঞ্চে, হিংচা, হাড়হাচ, হেলচী, হারহস, হিংজা, এলিচি, তিতির ডগা, তিতির শাক, তিতির ডাঁটা প্রভৃতি স্থানীয় নামেও পরিচিত। এদের ফুলের রং সাদা। কাণ্ডের শীর্ষে গুচ্ছাকারে ফুল ফোটে। শীতকালে ফুল ও ফল হয়।

হেলেঞ্চা শাক ভাজা এবং ঝোল রান্না করে খাওয়া হয়। শাকের স্বাদ কিছুটা তিতা। ফলে ক্ষুধা বাড়ে ও মুখে রুচি ফেরে। ডাল মিশিয়ে বড়া বানিয়েও এটি খাওয়া হয়। হেলেঞ্চা শাকে আছে ভিটামিন সি—যা কান্সারের ঝুঁকি কমায়, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সাধারণ ঠান্ডা-কাশি কমাতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য, হাঁপানি, ডায়রিয়া ও স্নায়ুরোগের ভেষজ চিকিত্সায় হেলেঞ্চা ব্যবহার হয়ে থাকে। আয়ুর্বেদে হেলেঞ্চাকে রক্তশোধক, পিত্তনাশক, ক্ষুধাবর্ধক, ব্যথানাশক, জীবাণুনাশক ও জ্বরনাশক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সুশান্ত কুমার রায়