দুই বছর ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরল ১৭ নারী

বিভিন্ন মেয়াদে ভারতে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরল ১৭ নারী। রবিবার রাতে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদেরকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তারা দুই বছর পর্যন্ত ভারতীয় কারাগারে আটকে ছিল বলে ভুক্তভোগীরা জানায়।

ফেরত আসা নারীরা হলেন-বাগেরহাট জেলার আব্দুর রশিদ এর মেয়ে মরিয়ম খাতুন, মুজিবুর রহমান এর মেয়ে তানিয়া খাতুন, যশোর জেলার আব্দুল লতিফ এর মেয়ে ফাতেমা খাতুন, কাশেম আলী খার মেয়ে আফরোজা খাতুন, মুক্ত ফরিক এর মেয়ে সনিয়া বেগম, নড়াইল জেলার শওকত শেখ এর মেয়ে খাদিজা খাতুন, পারভেজ মোল্যার মেয়ে পলি খাতুন,তরফু মোল্যার মেয়ে বিউটি খাতুন,তোতা মোল্যার মেয়ে রুনা বেগম,বখতিয়ার রহমান এর মেয়ে রুমানা খাতুন, সালমন মোল্যার মেয়ে সেফালি বেগম, আমির আলীর মেয়ে তহমিনা খাতুন,চাঁদপুর জেলার সফিক মোল্যার মেয়ে রুমা বেগম, চুয়াডাঙ্গা জেলার মহিন আলীর মেয়ে রহিমা খাতুন, পটুয়াখালী জেলার নাসির সিকদার এর মেয়ে নাসরিন বেগম, সুনামগঞ্জ জেলার মোকারম আলীর মেয়ে শিল্পী বেগম, খুলনার ছলেমান হোসাইন এর মেয়ে আসমা খাতুন।তাদের সকলের বয়স ২০ থেকে ২৮ বছর এর মধ্যে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব  জানান, এরা পাসপোর্ট বাদে বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারতের পুনে শহরে  বিভিন্ন কাজ করার সময় সে দেশের পুলিশ এর কাছে আটক হয়। এরপর আদালতের মাধ্যমে তারা জেলখানায় যায়। পরে রেসকিউ ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থা তাদের নিজেদের শেল্টার হোমে রাখে। এরা সেখানে ২ বছর থাকার পর দেশে এসেছে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে। ইমিগ্রেশন এর আনুষ্ঠানিকতা শেষে এদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। 

আরো পড়ুন: পরিকল্পনা কমিশন-বেজা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর 

বেনাপোল পোর্ট থানার এস আই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এরা দালালদের খপ্পরে পড়ে ভালো কাজের আশায় সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যায়। এরপর তারা সে দেশের পুলিশ এর কাছে আটক হয়। দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি চালাচালির এক পর্যায় বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে আজ তারা দেশে ফিরেছে। থানার আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের জাস্টিস কেয়ার ও যশোর রাইটস নামে দুটি এনজিও সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে।

যশোর রাইটস এর এরিয়া কোয়ার্ডিনেটর আব্দুল মুহিত বলেন, থানার আনুষ্ঠানিকতা শেষে যশোর নেওয়া হবে। পরে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ইত্তেফাক/এএএম