শীতের সময় দূরদূরান্তর থেকে কত বিচিত্র ধরনের পাখি আসে সুন্দরবনসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলে। আর কতিপয় মানুষ গুলতি-এয়ারগানে পক্ষী নিধন করে থাকে। কত বাধা, কত নিষেধ, কত আইন থাকা সত্ত্ব্বেও তাদেরকে থামানো যাচ্ছে না। শৈশবে আমাদের বা সেই সময়ের বড়দের ধারণাই হয়নি, পক্ষী নিধনে এক সময়ে পক্ষীকুল ধ্বংস হয়ে যাবে, বাস্তুতন্ত্রে যাদের উপস্থিতি অপরিহার্য। সত্তরের দশকের শুরুতে বন্যপ্রাণী রক্ষা আইনের সূত্রপাত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই আইন প্রণয়নের অর্ধশত পরও গ্রামে গ্রামে গুলতি-এয়ারগানের দাপাদাপি। আর ফাঁদ পেতেও চলছে পাখি শিকার।
বউকথাকও পাখির ডাক এখনো মাঝেমধ্যে কানে বাজে—শঙ্করপাশা গাঁয়ের পথে গেলে শুনতাম ওদের ডাক। বলেশ্বরের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় প্রচুর বাটাং দেখা যেত। মনে পড়ে, এরা শুধুই লেজের পালক সর্বদাই দোলাত। শীতে সাইবেরিয়া বা আফ্রিকার জঙ্গল থেকে আসত পঞ্চাশ কি ষাট রকমের পরিযায়ী পাখি। আহা মনে পড়ে মাছরাঙা, ডুবুরি হাঁস, হাড়গিলা, মদনটাক, কাদাখোঁচা আরো কত পাখি দেখেছি সারা বছর ধরে আমাদের বাগানবাড়িতে। এখন আর দেখা যায় না। পরিবেশের কারণে যত না পক্ষীকুল শেষ হচ্ছে, বেশি শেষ হচ্ছে গুলতি, এয়ারগান, ফাঁদে। কোটি কোটি প্যাসেঞ্জার পিজন পরিবেশের কারণে শেষ হয়নি, মানুষ এদের খেয়ে শেষ করেছে। ডোডো পাখিও মানুষ খেয়ে শেষ করে ফেলেছে। বন্যপ্রাণী হত্যা রোধের আইন প্রণয়নের পঞ্চাশ বছর পরে এসে এখনো কি আমরা গুলতি-এয়ারগান তৈরি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে পারি না?
লিয়াকত হোসেন খোকন, রূপনগর, ঢাকা