তিন বছর ধরে কমিটি না থাকায় ভেঙে পড়েছে গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কার্যক্রম। কমিটিতে পদ-পদবির আশায় অনেকের বয়সও অতিক্রম করেছে। দলীয় পদ না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় তিন বছর হতে চলেছে এখনো পর্যন্ত কমিটি ঘোষণা না করায় মহানগর কমিটির পদ প্রত্যাশিত একাধিক নেতাদের বয়সসীমা অতিক্রম করেছে। ওয়ার্ড এবং থানা পর্যায় থেকে উঠে আসা এক সময়ের মাঠ পর্যায়ের সংগ্রামী ছাত্র নেতাদের প্রত্যাশিত পদের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে বয়স অতিক্রম করায় আগামী মহানগর কমিটি থেকে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনায় রয়েছে। টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সরকার বাবু, শেখ মোস্তাক আহম্মেদ কাজল, গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাজী মো. সাকির, টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী মন্জুর বলেন, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মিত ছাত্রদের পদ-পদবি পেতে অবিবাহিত এবং বয়স ২৯-এর মধ্যে হতে হয়। এতে করে দেখা যায়, ছাত্রলীগ করা ছেলে অথবা মেয়েটি একটা নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর অনেকেই বেকার বা পরিবারের বোঝায় পরিণত হচ্ছেন। কারণ ২৯ বছর পার হওয়ার পর সরকারি চাকরির সুযোগ ক্ষীণ হয়ে যায়। আর ব্যবসা-বাণিজ্য করার মতো সবার কাছে তেমন পুঁজিও থাকে না। তার ওপর যদি দীর্ঘদিন একটি ইউনিটে কমিটি না থাকে তবে সেখানে সেশনজট সৃষ্টি হয় এবং সংগঠনের নেতাকর্মীরা অনেক দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জানান, ২০১৮ সালের সম্মেলনের পর থেকে কয়েক দফায় কমিটি দেওয়া হবে বলে নানান আলোচনা হতে থাকে। ঐ সময়ে কমিটি ঘোষণা না করায় পদ প্রত্যাশিত একাধিক নেতার বয়স অতিক্রম হওয়ায় কয়েক জন ছাত্রলীগ নেতা গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। অনেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনে দৌড়ঝাঁপ করছেন। গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগ অভিভাবকহীন হয়ে পড়ায় থানা এবং ওয়ার্ড কমিটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। মহানগর কমিটি না থাকায় অধিকাংশ থানা এবং ওয়ার্ড কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি। গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর প্রত্যাশা, সংগঠনকে গতিশীল করার স্বার্থে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের সেশনজট থেকে মুক্তি দিবে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহসম্পাদক, মো. রেজাউল করিম জানান, আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।