কুষ্টিয়ার ‘রাজাকার ভাস্কর্য’ সংরক্ষণের অভাবে বেহাল

মহান মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজাকারদের ঘৃণা প্রদর্শনে কুষ্টিয়ায় নির্মিত দানবাকৃতির ঘৃণিত ‘রাজাকার ভাস্কর্যটি’ অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে। এছাড়া সংরক্ষণের অভাবে ভাস্কর্য অনেকটা আড়াল হয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকারদের সংঘটিত ঘৃণ্য অপরাধ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ভাস্কর্যটি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। দেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপিত হলেও রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনের নিমিত্তে ‘রাজাকার ভাস্কর্য’ সম্ভবত কুষ্টিয়াতে প্রথম নির্মিত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘৃণিত রাজাকার ভাস্কর্যটি কুষ্টিয়ার স্থপতি ইতি খানের ডিজাইন ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে শহরের প্রবেশ মুখ মজমপুর গেট চত্বরে ট্রাফিক পুলিশ বক্সসংলগ্ন জনাকীর্ণ এলাকায় নির্মিত হয়। স্টিলের পাত-অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করে হায়েনা রাজাকারদের স্বরূপ উন্মোচন ও সংঘটিত ঘৃণ্য অপকর্মের চিত্র রং-তুলিতে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। দানবাকৃতির এ ভাস্কর্যটি নির্মাণের পাশাপাশি এখানে কুষ্টিয়ার চিহ্নিত রাজাকারদের একটি তালিকাও প্রদর্শন করা হয়।

২০০৯ সালের ১৭ এপ্রিল বিপুলসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার উপস্থিতিতে ‘ঘৃণিত রাজাকার’ ভাস্কর্যটিতে মুহুর্মুহু পাথর নিক্ষেপ এবং রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা মেজর জেনারেল (অব.) সিআর দত্ত, সমন্বয়ক লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ ও মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদসহ প্রতিনিধি দল ভাস্কর্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। তত্কালে মাত্র ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ে স্টিলের পাত দিয়ে তৈরি ভূমি সমতল থেকে ১৮ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন ভাস্কর্যটি কংক্রিট ঢালাইয়ের একটি লম্বা খুঁটির সঙ্গে প্রতিস্থাপন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, অগ্নিসংযোগসহ রাজাকারদের নানা অপরাধ-অপকর্মের চিত্র ভাস্কর্যটিতে সুচারুভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের সংঘটিত অপরাধের ঘটনাগুলো এ ভাস্কর্যটিতে সুচারুভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আগে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসতেন ‘রাজাকার ভাস্কর্য চত্বরে  কিন্তু এখন কোনো দর্শনার্থীর  দেখা মেলে না।

তবে অযত্ন-অবহেলায় এ ভাস্কর্যটি এখন বিবর্ণ ও সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে। এছাড়া ভাস্কর্য চত্বরে স্থাপিত রাজাকারের তালিকাটি উধাও। এদিকে ভাস্কর্যটি সংস্কার ও সংরক্ষণে জেলা প্রশাসন কিংবা মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ড ইউনিটের নেই কোনো ভ্রুক্ষেপ। ফলে জনতার চোখ এড়িয়ে ভাস্কর্যটি হয়ে যাচ্ছে আড়াল।

কুষ্টিয়ার পোড়াদহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অন্নদা প্রসাদ মোহন্ত জানান, ঘৃণিত ‘রাজাকার ভাস্কর্যটি’ নতুন প্রজন্মসহ দেশের সব মানুষের জন্য শিক্ষণীয় ও অনুরকণীয় দৃষ্টান্ত। এটি যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি করেন তিনি। 

কুষ্টিয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিটের সাবেক জেলা কমান্ডার আলহাজ রফিকুল আলম টুকু জানান, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের অপকর্ম-অপরাধ জানাতে এ ভাস্কর্যটি রাষ্ট্রীয়ভাবে  সংরক্ষণ করতে হবে।