ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক নির্মাণকাজ শুরুর দেড় বছরেও পুরোপুরি শেষ হয়নি সড়ক নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ। অভিজ্ঞজনেরা মনে করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বাড়তে পারে জটিলতা। বিলম্ব হতে পারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মহাসড়ক নির্মাণের কাজ। সড়ক নির্মাণ প্রকল্প প্যাকেজ-৭-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ম. আফিদ হোসেন জানান, প্যাকেজ-৭ এ গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থেকে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বড়দরগা পর্যন্ত ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণ করছে সরকার। এর মধ্যে পলাশবাড়ী থেকে ধাপেরহাট পর্যন্ত আট কিলোমিটার ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার দুই কিলোমিটার সড়কের দুই ধারের ভূমি প্রকল্প কর্মকর্তাদের কাছে এখন পর্যন্ত হস্তান্তর করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুরের পীরগঞ্জের বড়দরগা, লালদীঘি ও পীরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের আগ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়াতে এখন সেখানে চলছে সড়ক নির্মাণ কাজ। এরই মধ্যে নির্মাণাধীন সড়কের কিছু অংশে কংক্রিটের কাজ শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রকৌশলী ম. আফিদ হোসেন বলেন, ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে রয়েছে কংক্রিট ঢালাই সড়ক সাড়ে ৮ কিলোমিটার। এই কংক্রিট সড়ক নির্মাণ করা হবে পীরগঞ্জের লালদীঘি, খেদমতপুর, গাইবান্ধা জেলার ধাপেরহাট ও পলাশবাড়ীসহ অন্যান্য বাজার এলাকায়। আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে পীরগঞ্জের লালদীঘিতে ৩০ মিটার, পীরগঞ্জে ৬৯ মিটার, ধাপেরহাটে ৩০ মিটার ও পলাশবাড়ীতে ১৭৮ মিটার। সড়কের মধ্যে ৩০টি কালভার্ট থাকবে। এরই মধ্যে ২৬টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তিনি জানান, ভূমি অধিগ্রহণে সৃষ্ট জটিলতার কারণে পলাশবাড়ী থেকে ধাপেরহাট এলাকায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। মহাসড়কের জন্য রংপুর ও গাইবান্ধা জেলায় ১৭৬ দশমিক ৮৮ একর ভূমির প্রয়োজন। ইতিমধ্যে রংপুর অংশে ৭৮ দশমিক ২৪ একর পাওয়া গেছে। গাইবান্ধা অংশের ৩৩ দশমিক ৪৪ একর ভূমি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রকৌশলী মো. আফিদ হোসেন আরো জানান, জমি অধিগ্রহণের জন্য এরই মধ্যে রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে ১২০ কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখন পর্যন্ত ৯৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক নির্মাণাধীন এ কাজে ব্যয় হবে ৫২৫ কোটি টাকা। সড়ক নির্মাণ শুরুর পর এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। শেষ হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ২০২২ সালের জুন মাসে।
সড়ক নির্মাণ প্রকল্প প্যাকেজ-৭-এর উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. সাইমুম আতিক বলেন, সাড়ে আট কিলোমিটার কংক্রিটের সড়ক নির্মাণ ও চারটি আন্ডারপাস নতুন করে সংযুক্ত করায় প্রকল্প ব্যয় প্রায় অর্ধেক বাড়বে। এসব কংক্রিটের সড়ক নির্মাণ করা হবে সড়কের দুই পাশের বাজার এলাকায়। যাতে করে সড়কের কোনো ক্ষতি না হয়। এরই মধ্যে সড়ক নির্মাণের জন্য পল্লি বিদ্যুতের খুঁটি, বিটিসিএলএর তারসহ বিভিন্ন স্থাপনা অপসরণ করা হয়েছে। রংপুরের জেলা প্রশাসক মো. আসিফ আহসান বলেন, নির্মাণ প্রকল্পের প্রকৌশলীরা নির্দিষ্ট করে কোথায় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে সেটা আমাদের জানালে আমরা তা দখলমুক্ত করে দেব। রংপুরের মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জে ১৭টি ভূমি অধিগ্রহণ মামলা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে।