তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকিবিমা বাতিল করল আইডিআরএ

সরকার থেকে পরিবহনের ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকিবিমা তুলে দেওয়ার পর এবার ‘তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকিবিমা’ প্রডাক্ট বা পরিকল্পটি বাতিল করেছে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। গত রবিবার তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকিবিমা পরিকল্প বাতিল করা সংক্রান্ত একটি আদেশ সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এতে সই করেছেন আইডিআরএর চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন।

‘দেশের জিডিপিতে বিমা খাতের পেনিট্রেশন বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিতে বিমা খাতকে প্রবৃদ্ধির খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, বিমা খাতের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও বিমা পলিসি গ্রাহকদের স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য’ তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকিবিমা পরিকল্প বাতিল করা হয়েছে বলে এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এর ধারা ১০৯ অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকিবিমা বাধ্যতামূলক ছিল এবং এর অধীনে ১৫৫ ধারায় দণ্ডের বিধানও ছিল। তবে নতুন সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-তে তৃতীয় পক্ষের বিমা তুলে দেওয়া হয়েছে।

আইনের এ বিষয় তুলে ধরে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানায়, তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকিবিমা না থাকলে সংশ্লিষ্ট মোটরযান বা মোটরযানের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করার কোনো সুযোগ নেই। বিআরটিএর এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি পুলিশ মহাপরিদর্শক, সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, হাইওয়ে পুলিশপ্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়ছে।

তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকিবিমা বাতিল করে আইডিআরএর দেওয়া এ সংক্রান্ত আদেশে আইনের দুইটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কোনো মোটরযানের মালিক বা প্রতিষ্ঠান ইচ্ছা করলে তার মালিকানাধীন যে কোনো মোটরযানের জন্য যেসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট করা তাদের জীবন ও সম্পদের বিমা করতে পারবে। মোটরযানের মালিক বা প্রতিষ্ঠানের অধীন পরিচালিত মোটরযানের জন্য যথানিয়মে বিমা করবেন এবং মোটরযানের ক্ষতি বা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি বিমার আওতাভুক্ত থাকবে। বিমাকারী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। এদিকে তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকিবিমা তুলে দেওয়ার কারণে সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন এ খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের যে বিমা করা হয় তার প্রায় সবটাই তৃতীয় পক্ষের বিমা। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বড় অংশের আয় হারাবে বিমা খাত।