বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জাতীয় পতাকা বিকৃতভাবে উপস্থাপন ও অবমাননার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ। সোমবার দুপুরে নগরীর পার্কের মোড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, যারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে জুতা পায়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছিলেন, তারাই বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকা বিকৃতি করে তা ফেসবুকে প্রকাশ করে। এরা বারবার অপরাধ করে ছাড় পেয়ে যাওয়াতে এমন কাণ্ড করে যাচ্ছে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—বঙ্গবন্ধু পরিষদ বেরোবি শাখার সভাপতি কমলেশ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, সহসভাপতি তারিকুল ইসলাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাহমুদুল হক প্রমুখ। এদিকে একই দাবিতে সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখ ফটকে মানববন্ধন করে জাতীয় শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদ। এছাড়া ১৭ ডিসেম্বর থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে পতাকা বিকৃতির ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, মহান বিজয় দিবসে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারকে বিকৃত পতাকা নিয়ে ছবি তোলেন ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন শিক্ষক। পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় উঠে। এ ঘটনায় ৯ শিক্ষকসহ উপাচার্যের বিরুদ্ধে তাজহাট থানায় দুটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে রংপুর জেলা প্রশাসন থেকে তিন সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঐ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা।
এদিকে স্টাফ রিপোর্টার রংপুর জানান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা অবমাননার মামলায় আদালত আগামী ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে নগরীর তাজহাট মেট্রোপলিটন থানায় দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার তদন্ত করে এই সময়ের মধ্যে তাজহাট থানার ওসিকে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল আদালতের মেজিস্ট্রেট শওকত আলী।