করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে আরো তত্পর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বিশ্বের অনেক দেশেই করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। কোনো কোনো দেশ করোনা প্রতিরোধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। আমাদেরও এসব বিষয়ে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্বের সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব নাগরিকের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উল্লেখ করে সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ এ নীতি কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে আরো তত্পর হওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
জানুয়ারির শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির
শুরুতে করোনা ভ্যাকসিন আসছে
জানুয়ারি মাসের শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির শুরুতে বাংলাদেশে করোনা ভ্যাকসিন আসছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রথম দফায় ৩ কোটি ডোজ আনা হবে। পরে মে-জুনের মধ্যে আরো ৬ কোটি ডোজ আসবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ভ্যাকসিন পেয়ে যাব। এজন্য গ্রাসরুট লেভেল পর্যন্ত সবাইকে ট্রেনিং দেওয়া শুরু হয়েছে। ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য যেসব জিনিস ব্যবহার করা হবে সেগুলো কীভাবে ডিসপোজাল হবে সেই ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে টিকা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা করছেন।
তিনি বলেন, করোনা টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা ইপিআইয়ের (টিকা কার্যক্রম) যে ব্যাপক কার্যক্রম আছে (করোনার টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে) সেটিকে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন, প্রাইভেট সেক্টরকে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন।
সচিব বলেন, যেহেতু সময় পাচ্ছি আমরা, আপাতত অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন নিয়ে চিন্তা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যদি অন্য কেউ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনসহ প্রস্তাব নিয়ে আসে, সরকার কাউকেই মানা করবে না। আমাদের যে কমিটি আছে তারা অনুমোদন দেবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, আরো ৬ কোটি ভ্যাকসিন কোভেক্সের মাধ্যমে মে-জুন মাসের মধ্যে আসবে। এক মাস আগে-পরে হতে পারে। প্রথম দফায় যে তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আসার কথা, তার মধ্যে দেড় কোটি ডোজ আসছে। দুটি ডোজ ভ্যাকসিন মিলে একটি টিকা হবে। দ্বিতীয় দফায় আরো ৩ কোটি মানুষের জন্য টিকা আসবে। মোট সাড়ে ৪ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে।
নতুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে কুড়িগ্রামে
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সংক্রান্ত আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসরণ করে নতুন এ আইন করা হচ্ছে।