ভুয়া চিকিত্সকের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান চেয়ে রিট

ভুয়া চিকিত্সকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে ভুয়া চিকিত্সকের বিষয়টি প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের শাস্তি ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এই সাজা খুবই নগণ্য। কারণ একজন ভুয়া চিকিত্সক তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাই ভুয়া ডাক্তার পরিচয় দিয়ে যারা জনগণকে প্রতিনিয়ত প্রতারিত করছে, তাদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করাই যুক্তিযুক্ত। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জে আর খান রবিন গতকাল সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন। রিটে আইনসচিব, স্বাস্থ্যসচিব, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতিকে বিবাদী করা হয়েছে।

জে আর খান রবিন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক অধিকার। মানুষের এই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চিকিত্সকদের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করছে। এই প্রতারণার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে অনেক ভুয়া চিকিত্সককে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ২৮(৩) ধারা অনুযায়ী যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে নিবন্ধনকৃত একজন মেডিক্যাল চিকিত্সক বা ডেন্টাল চিকিত্সক বলে প্রতারণা করেন অথবা প্রতারণামূলকভাবে তার নাম বা পদবির সঙ্গে নিবন্ধনকৃত মর্মে কোনো শব্দ, বর্ণ বা অভিব্যক্তি ব্যবহার করেন, তার মিথ্যা পরিচয় দ্বারা কোনো ব্যক্তি প্রতারিত না হলেও তার জন্য তিনি তিন বছর কারাদণ্ড অথবা ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। আইনের ২৯ ধারা অনুযায়ী কেউ অনুমোদিত মেডিক্যাল কলেজ অথবা প্রতিষ্ঠান থেকে এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রি অর্জন না করে তার নামের আগে ডাক্তার উপাধি ব্যবহার করলেও অনুরূপ সাজার বিধান রয়েছে। তাই বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে শাস্তি বৃদ্ধি করাটাই দরকার। তাহলে অপরাধ কমবে।