রাজশাহীর কাঁকনহাট মেয়রের বিরুদ্ধে ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাজশাহীর কাঁকনহাট পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন আব্দুল মজিদ। এর আগেও প্রশাসক ছিলেন দুই বছর। এ পর্যন্ত পৌরসভার তিনটি নির্বাচনের প্রতিটিতেই জয়ী হয়েছেন। প্রায় দুই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা এই মেয়রের বিরুদ্ধে গত ১৬ বছরে প্রায় ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও পড়েছে একাধিকবার। সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবর পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ আমিরুল ইসলাম ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোর্তজা শেখ দুদকে অভিযোগ দেন। আগের দিন তারা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আগে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পকে নতুন করে তালিকায় দেখিয়ে আত্মসাত্ করা হয়েছে প্রায় ৬৭ লাখ টাকা। এছাড়া ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে কাঁকনহাট পৌরসভায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প           বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রকল্পের কাজ না করেই তুলে নেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। বাকি ৯টি প্রকল্পের কাজেও হয়েছে পুকুরচুরি। পৌর মেয়র আব্দুল মজিদ ও সচিব রবিউল ইসলামের যোগসাজশে একই কাজ বারবার বাস্তবায়ন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাত্ করা হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দুদকে দেওয়া পৃথক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, মেয়র ১৫ বছরে ১০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাত্ করেছেন। এর মধ্যে রাজস্ব খাত থেকে আত্মসাত্ করেছেন ৫ কোটি টাকা। এছাড়া সরকারি উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ৫ কোটি, গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ৩ কোটি, ইউজি/আইপি- ২ থেকে ৮ লাখ এবং ইউজিআইপি-২ থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা।

কাউন্সিলর গোলাম মর্তুজা শেখ দাবি করেন, পৌরসভায় এমন কোনো অনিয়ম নেই যা মেয়র করেননি। তিনি বলেন, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে পৌরসভার বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার হয়েছে। এরপর ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে কোনো কাজ হয়নি। আগের প্রকল্পের ক্রমিক নম্বর বদলে বাস্তবায়ন দেখিয়ে আড়াই কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন মেয়র। কিন্তু তিন বছর আগে কাজ করেও ঠিকাদারেরা বিল পাননি।

উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে মেয়র আব্দুুল মজিদ অবশ্য দাবি করেন, পৌরসভার উন্নয়ন করেছেন বলেই বারবার পৌরবাসী তার পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অপপ্রচারে লিপ্ত। তারাই বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করছেন। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন পৌরসভার প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। একই প্রকল্প বারবার কীভাবে এলো, বিষয়টি বলতে পারবেন প্রকৌশলী। মেয়র হিসেবে তিনি কেবল তাদের সাজিয়ে দেওয়া নথিপত্রে সই করেছেন।