কনকনে শীতে রাস্তার পাশে পড়ে ছিল নবজাতকটি, উদ্ধারের পর হাসপাতালে শিরোনামে ইত্তেফাক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর পরিচয়হীন কন্যা শিশুটি দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পারভেজ হাসান। পদ্মা সেতুর নামে শিশুটির নাম রাখা হয়েছে 'সেতু'।
গত শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরভাগা বঙ্গবন্ধু স্কুলের রাস্তার পাশে পাথরের ওপর নবজাতক কন্যা শিশুকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় ভূঁইয়া কান্দি গ্ৰামের আমান উল্লাহ সরদারের মেয়ে আমেনা সরদার শিশুটিকে কোলে তুলে নেন।পরে পার্শ্ববর্তী রামভদ্রপুর ইউনিয়নের মুজিবুর মাদবরের স্ত্রী আছিয়া লালন পালন করার জন্য শিশুটিকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ইত্তেফাকের ভেদরগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আল নাসীফকে মোবাইলে অবগত করলে তাৎক্ষণিক সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নিউজ দেখে সোমবার (২১ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুনীর আহম্মেদ খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শিশুটির ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) পারভেজ হাসান। তিনি আশা করেন, শিশুটি একদিন বড় হয়ে পড়ালেখা শিখে মানবসেবায় নিয়োজিত হবে। এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানস জনপ্রতিনিধিরা হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে যান। এ সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পারভেজ হাসান। শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। তিনি বেশ কিছুক্ষণ শিশুটিকে কোলে রাখেন। এদিকে অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নিতে ভিড় করেন হাসপাতালে। পরে হাসপাতালের সাধারণ শিশু ওয়ার্ড থেকে কেবিনে স্থানান্তর করেন শিশুটিকে। কেবিনে রুম হিটারের ব্যবস্থা করেন, যাতে শিশুটির ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত না হয়। পাশাপাশি মশারি, পোশাক, খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেন জেলা প্রশাসক। এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছে শিশুটি।
ডিসি পারভেজ হাসান বলেন, আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় শিশুটিকে এক দম্পতির হাতে তুলে দেয়া হবে। যাতে শিশুটি ওই বাবা-মায়ের পরিচয়ে বড় হতে পারে।
ইত্তেফাক/কেকে