স্থান নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
স্থান নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা থাকার কারণে প্রতিষ্ঠার প্রায় ২১ বছর পরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ‘পৌর ভবন’ নির্মাণ করা যায়নি। তাই দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সদরের থানা গেট-সংলগ্ন একটি ছোট্ট জায়গায় একটি টিনশেড ঘরকেই ‘পৌর কার্যালয়’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর ঐ টিনের ঘরের ভেতরে কয়েকটি ছোট ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে কোনো রকমে চলছে কাগজে-কলমে থাকা ‘প্রথম শ্রেণি’ভুক্ত এই আধুনিক পৌরসভার কার্যক্রম।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে তত্কালীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য প্রয়াত আবদুল লতিফের প্রচেষ্ঠায় নবীনগর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পর ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে পৌর ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে সময় দরপত্র অনুযায়ী ২০০৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর ‘পৌর ভবন’ নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ‘মেসার্স সাদেকুল হক ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী উপজেলা সদরের উত্তর বাজারসংলগ্ন নবীনগর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো কার্যালয় প্রাঙ্গণের সরকারি বিশাল খালি জায়গায় পৌর ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পৌরসভার দক্ষিণাংশের লোকজন ভবনটি পৌরসভার মাঝামাঝি স্থানে নির্মাণের দাবিতে প্রচণ্ড আন্দোলনে নামে। ফলে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর গত ১৬ বছরেও পৌরবাসীর বহুল প্রত্যাশিত এই পৌর ভবন নির্মিত হয়নি। তবে মাঝখানে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যৌথ বাহিনী থানা গেট-সংলগ্ন ৩৩ শতক সরকারি জায়গা থেকে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে একটি আধুনিক পৌর ভবন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি মহলের বিরোধিতার কারণে সেই উদ্যোগও সফল হয়নি। পরে ঐ ৩৩ শতকের ২৫ শতক জায়গা বিভিন্ন নামে ‘লিজ’ নিয়ে স্থাপনা তুলে ফেলায় বর্তমানে ঐ জায়গার মাত্র ৮ শতক লম্বা জায়গায় একটি টিনশেড ঘর তুলে কোনো রকমে প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার ‘দৈনন্দিন কার্যালয়’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ও ঐ ২৫ শতক লিজের জায়গাতেই রয়েছে।
এ বিষয়ে নবীনগর পৌরসভার সচিব মো. বেলজুর রহমান খান বলেন, বর্তমানে মাস্টাররোলে ৫৮ জন এবং স্থায়ী ২৩ জন—মোট ৮১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ পৌরসভায় কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু টিনশেডের এই ছোট্ট ঘরে কোনোভাবেই সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে গত মেয়র নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন মাঈনু বলেন, ‘পৌর ভবনটি পৌরবাসীর জন্য খুবই দরকার। কিন্তু ভবনটি পৌরসভার মাঝামাঝি স্থানে নির্মাণের দাবিতে পৌরবাসী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলায় সে সময় ভবন নির্মাণ বন্ধ হয়ে যায়। নবীনগর পৌরসভার বর্তমান মেয়র অ্যাডভোকেট শিব সংকর দাস বলেন, ‘ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থান জটিলতার কারণে গত ২০ বছরেও ভবনটি নির্মাণ করা যায়নি। বারবারই পৌরসভার উত্তরাংশ ও দক্ষিণাংশের বাসিন্দারা দুই মেরুতে অবস্থান নেওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। তবে শিগিগরই পৌরবাসীকে নিয়ে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে বর্তমান জায়গাতেই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেব।’ তবে করোনার কারণে পৌরসভার অনেক কাজই আটকে আছে। পৌরসভার ভবন নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে দ্রুতই উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।