চিঠি আর স্মার্টফোনের গ্যাপটুকুতে আমরা যারা বড় হয়ে গেছি তারা পেয়েছিলাম এসএমএসের দিনগুলি। বাটনফোনে চোখ বুজে টাইপ করতে পারতাম। কত ছন্দ মিলিয়ে মিলিয়ে, কী মিষ্টি সব কথা থাকত! ঈদকার্ডের প্রচলন তখনো পুরোপুরি উঠে যায়নি। বন্ধুদের জন্য ঈদকার্ড আমরা নিজের হাতেই বানাতাম। সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে করতাম এসএসএম—‘ঐ দেখা যায় ঈদের চাঁদ/বাড়িয়ে দিলাম দুইটি হাত/মিষ্টি মিষ্টি হাসিতে/দাওয়াত দিলাম আসিতে।’ কেবল ইদ শুভেচ্ছা বিনিময়ই কেন? কৌতুক-হাসি-তামাশা কী থাকত না সেই এসএমএসে আমাদের তখন সদ্য কৈশোর। কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি ভালো লাগার। বাজারে ছোট ছোট বইও পাওয়া যেত। আহা! কাঁচা আবেগ! সময়ের রং বদলে এখন তা ফিকে হয়ে গিয়ে সস্তা ন্যাকামো মনে হতে পারে। কিন্তু সেই প্রথম বয়সের প্রেমই ছিল একেবারে নিখাঁদ সোনা। যে প্রেম কাঁপা কাঁপা হাতে বাবার ফোন থেকে এসএমএস পাঠিয়ে ডিলিট করে দিতে শিখিয়েছিল। শিখিয়েছিল সাংকেতিক এসএমএস পাঠানো।
আমরা তখন ক্লাস এইটে। দেব-কোয়েল জুটির ‘পাগলু’ সিনেমা হলে এসেছে। ঐ সিনেমা ৯১২২১ দিয়ে i love u বলা শেখায়। তারপর? তারপর আমাদের কৈশোরের গন্ধ ম্লান হয়ে যাওয়ার আগেই হাতে হাতে স্মার্টফোন চলে আসে। নীল সাদা মেসেঞ্জার গিলে ফেলে এসএমএস। ব্যক্তিগত ফোন, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট। কাঁপা কাঁপা হাতে আর মেসেজ ডিলিট করতে হয় না। এমনি করেই চলে যায় সোনারঙা সব দিন অলক্ষ্যে, অগোচরে। তবু কখনো যান্ত্রিক জীবনের ফাঁক-ফোঁকড়ে নাড়াচাড়া দিয়ে ওঠে জমানো খুচরো স্মৃতি। হাওয়া লাগে বুকের দখিনের দরোজায়। কেমন হু হু করা উদাসীন বাতাস...
আকলিমা সোমা
শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ