দৈনিক ইত্তেফাকে আমার নাম প্রথম ছাপা হয় ১৯৬৫ সাল। জগন্নাথ কলেজের ‘এসআর হল ছাত্রলীগ শাখা গঠন’ শিরোনামে ভেতরের পৃষ্ঠায় নিউজ, সভাপতি এ এইচ এম নোমান, সেক্রেটারি আব্দুল মঈন। রামকৃষ্ণ মিশন রোডের দ্বিতীয়তলা অফিস নিউজ ডেস্কে বসা টাক মাথার তালেব ভাই দেখেই হাত বাড়িয়ে, ‘কী নেতারা! কী নিয়ে এসেছেন, দেন। পাশের সিটে সিরাজুদ্দীন ভাই। সেই হাসিমাখা সন্ধ্যারাতের ব্যস্ত সময়ে স্বাগত স্বর এবং সিরাজুদ্দীন ভাইয়ের তাকিয়ে সায় দেওয়া চেহারা যেন এখনো চোখে ভাসে। ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন সভা উপলক্ষ্যে জগন্নাথ কলেজ থেকে মিছিলসহ অংশগ্রহণ, যা ছবিসহ ইত্তেফাকের প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়। দৈনিক ইত্তেফাক, ৬ দফা, ১ দফা, সত্তরের বন্যা, মুক্তিযুদ্ধ, বিজয়, উত্পাদন যুদ্ধ এবং এযাবত্ কালের লেখা টুকটাক; মা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনাসভা :দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের আহ্বান ১০ মে ২০০৫; ঐতিহাসিক শেখের কিল্লা ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭; পথিকৃত্ : মাতৃবন্ধু এ এইচ এম নোমান ১২ জুলাই ২০১৭; বিধি মেনে করোনা ঠেকাই, উত্পাদন বাড়াই ৭ এপ্রিল ২০২০; একজন সংসদ সদস্যের উত্পাদন-রাজনীতি ২৯ আগস্ট ২০২০ ইত্যাদি, জীবন হালচাল যুদ্ধ যেন একাকার। ইতিমধ্যে ৫৫ বছর পার করলাম। ‘নাম ছাপা’ শুরু এবং ইত্তেফাকের ৬৮ বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমার ‘লেখা ছাপা’ যেন এক অনাবিল আনন্দঘন আমার প্রাপ্তি-প্রণোদনা স্বস্তি। ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থানকালে পূর্ব পাকিস্তান চার্টার্ড একাউনটেন্টস স্টুডেন্টস অ্যাকশন কমিটির আহ্বায়ক-ছাত্র রাজনীতি জীবন শেষে ১৯৭০-এর ১২ নভেম্বরের ভয়াল বন্যা জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। শুরু হলো উত্পাদনের রাজনীতি। অর্থনীতি মুক্তির রাজনীতি।
আমাদের প্রতিষ্ঠিত (১৯৬৪) ‘মিতালী’ সংঘ জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলায় আলেকজান্ডার বাজারে একটি ইনফরমেশন সেন্টার খুলি। দেশি-বিদেশি যারা ত্রাণ নিয়ে আসেন, কোথায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, কারা বেশি সাহায্য পাওয়ার যোগ্য, কী কী সহায়তা কোন জায়গায় দরকার, পথনির্দেশনাসহ কোন পথে যেতে হবে ইত্যাদি গাইডসহ স্বেচ্ছাকর্মীরা সঙ্গে যেতাম। খাদ্যসামগ্রী বণ্টন যাতে সঠিক স্থানে-জনে পৌঁছায়। মত্স্যজীবী চর আবদুল্লাহ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। জলোচ্ছ্বাসের কিছুদিন পর এক বিকেলে হাজি আলী হোসেন চর আবদুল্লাহ থেকে দলবলসহ আমার আব্বা মেডেলিস্ট ডা. মফিজুর রহমানের চেম্বারে এলেন। তাদের অনুরোধ, আমাকে যেন রেখে দেন এলাকায়। বললেন, কত ছেলেমেয়েই তো বন্যায় মারা গেছে, ভেসে গেছে। আপনার ছেলেটা আমাদের দিয়ে দেন। সন্ধ্যায় আব্বা ঘরে ফিরে আম্মাকে ডেকে বলেন, ‘শুনছ, চর আবদুল্লাহ থেকে লোকজন এসেছে তোমার ছেলেকে এলাকায় রেখে দেওয়ার জন্য। ওকে লেখাপড়া শেখালাম, সিএ পড়ছে, পরীক্ষা সামনে ... এর কী হবে ...?’ সঙ্গে সঙ্গে শান্ত-সৌম্য তবে দৃঢ় কণ্ঠে আম্মা বললেন, ‘ভালোই তো, এলাকায় থাকবে, আমরাও আছি। থাকলে ভালোই, মানুষের কাজ হবে।’ গণমানুষের জন্য আম্মার এই উদার সহজ-সরল গভীর ভালোবাসার আবেদন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত চলছে।
১০ ডিসেম্বর, ১৯৭০। রামগতির সন্তান সিএসপি রিলিফ কমিশনার আবদুর রব চৌধুরী বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পরিস্থিতি জানাতে ‘মিতালী’কে দ্রুত অনুষ্ঠান আয়োজন করতে বললেন। ১১ ডিসেম্বর ১৯৭০। বাড়ি থেকে ‘মিতালী’ ইনফরমেশন সেন্টারে যাচ্ছি। কাদা রাস্তা। তখনো রামগতির রাস্তা পাকা হয়নি। ওয়াপদার ডাকবাংলোয় গিয়ে দেখি চট্টগ্রাম সমবায় থেকে টিমসহ আগত কৃষি বিশেষজ্ঞ ডেভিড জে স্টকলি এবং মনতোষ দাশ চাটাইতে বসে দাঁড়িয়ে খড়িমাটি দিয়ে কালো বোর্ডে কৃষক ম্যানেজারদের উচ্চফলনশীল চাষের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। আলোচনায় আমাকেও সম্পৃক্ত করলেন। সেই থেকেই শুরু উত্পাদন ও সমবায় কাজে আমার যাত্রা।
’৭০-এর বন্যায় স্থানীয় উদ্যোগ, ’৭৪-এর দুর্ভিক্ষে রংপুরের বাতাসন দুর্গাপুর, কুজি পুকুরের স্থানীয় অংশগ্রহণ ও বণ্টন ব্যবস্থাপনায় যে ভিত রচনার প্রচেষ্টা ছিল, তা ’৮৮-র বন্যা, ’৯১-এর চট্টগ্রাম উপকূলে জলোচ্ছ্বাসসহ পরবর্তীকালে সব দুর্যোগেই ত্রাণ, পরে দাননির্ভর পুনর্বাসন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের কোনো পথ সরকারি বা বেসরকারিভাবে উত্সারিত হয়নি। বরং পরনির্ভরশীলতা বারবার হাতছানি দিচ্ছে। প্রকৃত মানবসম্পদ উন্নয়ন উত্পাদন ও দেশীয় সম্পদ উন্নয়ন প্রচেষ্টা খাবি খাচ্ছে, ঘুরপাক খাচ্ছে বারবার বেনিয়াদের তাড়নায়। ধনী-গরিবদের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে, অধিকারহারা হচ্ছে সাধারণ জনগণ। ক্ষমতায়িত হচ্ছে দাতা, দেশীয় দোসর ও আমলা। দুর্নীতিবাজ অনাদর্শিক রাজনৈতিক ক্ষমতালিন্সুদের শোষণ-জাঁতাকলে অসহায় গণমানুষ, নারী-শিশু-পুরুষ। ’৭০-এর সাইক্লোন ও মুক্তিযুদ্ধের ধ্বংস থেকে সৃষ্টির স্লোগান, ‘ভিখারির হাত হোক কর্মীর হাতিয়ার’, ‘যাহা চাই যেন জয় করে পাই, গ্রহণ না করি দান, হে সর্বশক্তিমান’ হারিয়ে যাচ্ছে বিদেশি অর্থপুষ্টের দাপটে।
জলোচ্ছ্বাসের কয়েক মাসের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এর পরও দুর্ভিক্ষ, মন্দা, জলোচ্ছ্বাস, মঙ্গা, রাজনৈতিক হানাহানি কম যায়নি। বর্তমানে করোনা ভাইরাস-১৯-এর ভয়াবহ আক্রমণ চলমান। কৃষিবিপ্লব তথা অর্থনৈতিক মুক্তির পথ এগিয়ে নেওয়া এখন এবং এখান থেকেই সম্ভব। আমাদের মাছ, মুরগি-গবাদি পশু (মামুগ), শাকসবজি উত্পাদন বাড়াতে হবে। পোশাকশ্রমিক, ক্ষুদ্র কৃষক খেতে-খামারে কাজ করেন। শ্রম ও তাদের ঘামের মূল্য মালিকানা দিলেই আমরা কিন্তু এগিয়ে গেলাম, জিতে গেলাম। এই যুদ্ধে আমাদের ফ্রন্ট ফাইটিং করোনাকে পরাজিত করা আর ব্যাক ফাইটিং উত্পাদন বৃদ্ধিকে এগিয়ে নেওয়া। উত্পাদনে উদ্ভাবিত ঢেঁকি ঋণ থেকে ক্ষুদ্রঋণ সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
লক্ষ্মীপুর আজ সয়াবিন জেলা নামে পরিচিত। সেখানে ’৭০-এর বন্যা ও ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ মপযছ পরবর্তী সময়ে আমরা যুদ্ধের পাশাপাশি উত্পাদন যুদ্ধ চলমান রাখি। চিন্তা ছিল, দীর্ঘ সময় যুদ্ধ হতে পারে, তাই আমরা উত্পাদনযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছি। এর জন্য আমরা উত্পাদন ব্রিগেড তৈরি করেছি, উত্পাদক সমিতি করেছি। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু যখন কমপলসারি কো-অপারেটিভের কথা বললেন, আমরা রামগতির চর কালকিনিইউনিয়নে ৫০০ থেকে ১ হাজার সদস্য নিয়ে কৃষি সমবায় শুরু করি। বিএডিসি সরবরাহকৃত ৭২টি সেচের জন্য লো-লিফ পাম্প বসাই, লাইন সুইং ইরি চাষ করি ইত্যাদি। ভোলা সদর, নোয়াখালীর সুধারাম, রামগতিতে ট্রাক্টর, ওয়ার্কশপ স্থাপন করা হয়। ৪০টি ট্রাকটর দিয়ে ডাবল শিফটে দিন-রাত জমি চাষ উত্পাদনযুদ্ধ বৃদ্ধির কাজ হয়। বিএডিসির সহযোগিতায় ব্রিটিশ দাতা সংস্থা সিবিসির ম্যাক ডোনাল্ডসহ সমবায়ের মাধ্যমে এসব কর্মযজ্ঞ করা হয়। বাংলাদেশ যেমন একটা দেশ হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় হয়েছে, ঠিক তেমনি আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটাব উত্পাদন উন্নয়নের দিক থেকে। উত্পাদন আল্লাহর দান, যা প্রকৃতি। আল্লাহ বলছেন, ‘আমি তাকেই সাহায্য করি, যে নিজেকে নিজে সাহায্য করে’ সুরা রা’দ। দুর্যোগ, মহামারি, আপত্কালে সাধারণ জনগণ যে কোনো আস্থার উদ্যোগ আমলে নেয়। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হয়েছে। তবে খাদ্যে ভেজাল, মজুতদারি, লোভ-লালসা, দেশপ্রেমহীনতা, আদর্শিক রাজনীতিহারা ও ব্যাবসায়িক ঠিকাদার লেজুড়ি রাজনীতি বেড়েছে। কৃষি, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় চাষাবাদসহ উত্পাদনমুখী খাত চালুর লক্ষ্যে তত্পর হতে হবে। মা-মাটি, মানুষ, ক্ষেতখামার ইত্যাদির ওপর জোর দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। মুজিববর্ষ স্মরণে বঙ্গবন্ধুর শোষণহীন সমাজব্যবস্থা গড়তে সাম্য ও ন্যায্যতার একটি বিশাল শিক্ষা আমাদের দ্বারপ্রান্তে। পৃথিবীটাকে মাথা উঁচু করে আবার দেখিয়ে দেওয়ার সময় এখনই।
বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘পদ্মা সেতু নিজের টাকায় করব’ বিশারদ। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমার ভাগের কম্বলটা কোথায়? উনি বণ্টনব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। করোনায় হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক লাগানোর অভ্যাস পবিবর্তনের সঙ্গে চরিত্রও বদলাতে হবে। এখন সেই গরু-ছাগলের ঠুলি মানুষের মুখেও লাগাতে হচ্ছে। চরিত্রহীন মানুষ পশুর থেকেও অধম।
হায়েনা পাকিস্তান কারাগার থেকে প্রত্যাবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সর্বপ্রথম যে চর-গ্রামে ‘স্বেচ্ছাশ্রম-উত্পাদন গ্রামোন্নয়ন ও দেশ পুনর্গঠনের ডাক দেন, চর পোড়াগাছা, থানা রামগতি (আমার কর্ম শুরুর স্থল), জেলা তত্কালীন নোয়াখালী। ১৯৭৩। বঙ্গবন্ধু তখন শেরেবাংলা নগরের কার্যালয়ে বসেন। রামগতি থানা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন। সমবায় নির্বাচন উপলক্ষ্যে উত্পাদনের গতিধারা ও বাস্তবায়ননীতি নিয়ে আমার সঙ্গে স্থানীয় এক-দুই জন আওয়ামী লীগ নেতার মতপার্থক্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এমপি সিরাজুল ইসলাম ভাই আমাকেসহ ঢাকায় এলেন, গণভবনে গেলেন।
গণভবনে গেট পার হয়ে ভেতরে কতটুকু গেলেই দেখি বিশালাকায় আমাদের জাতির পিতা তোফায়েল ভাইকে পাশে নিয়ে বীর শীরে ধীর হেঁটে ডান দিকের বিল্ডিং থেকে আর এক কক্ষের দিকে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু সিরাজ ভাইকে দেখে—কি রে সিরাজ! ভাই, আসছিলাম নোমান সাহেবকে নিয়ে। নোমানকে নিয়ে? কী হয়েছে? আমাদের ওখানে সমবায় নির্বাচন। ফজলু মিয়া (আওমী লীগ থানা সভাপতি) ওনার বিপক্ষে প্রতিযোগিতা করতে চায়। বঙ্গবন্ধু, তা সে রাজনীতি করে? নোমান কৃষি-জেলে সমবায় কাজকর্ম করে। ফজলু এখানে কেন? এই তোফায়েল, দেখ, নোমানের এটা ঠিক করে দাও।
এই বলাই আমার পাথেয় ও জীবনের দিক বাতলে দেয়। বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্নের অনুসারী হয়ে এসব কর্মকাণ্ড ছিল উত্পাদন ও রাজনীতির পরস্পর সম্পূরক, পরিপূরক ও সহায়ক, যা বর্তমানে প্রায়ই অনুপস্থিত।
বঙ্গবন্ধু ঘোষণায় কমপালসারি কো-অপারেটিভ থানার চর কালকিনি ইউনিয়ন, পাশাপশি চর বাদাম ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় সমবায়ের মাধ্যমে তেভাগা খামার করি। ধান কাটা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এমপি সাহেবের সঙ্গে ছিলেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক সিএসপি লুত্ফুল্লাহীল মজিদ। আশপাশের গ্রামের কৃষক-চাষিদের ভিড়। কী জোশ-খুশি! উত্পাদন সবাই মিলে। তেভাগা খামারের উলটো দিকে পশ্চিম পাশের বড় কৃষক মাখন বাবুর মেয়ে আলপনা ও রীতার মহিলা সমবায় সদস্যদের নিয়ে তাদের বাড়ির পেছনে বিশাল মাঠে ভুট্টা, সূর্যমুখী চাষ করেছে। তা দেখানোর জন্য এমপি সাহেব, ডিসি সাহেব আবদুল করিম, জেলা কৃষি কর্মকর্তা, সমবায়ী-সংশ্লিষ্ট আমরা ভুট্টাখেতে গেলাম। মৃদু বাতাসের দোলায় সবুজ ভুট্টা পাতা, সূর্যমুখী ফুল যেন সবাইকে আলিঙ্গন করছে। সারা থানায় সয়াবিন চাষের বিপ্লব পাশের মাঠে দেখতে গেলেন।
খেত দেখা শেষে সমবায় আয়োজিত মাটির বাসনে একবারেই বেড়ে দেওয়া খাওয়া। ৫ টাকা নগদ দিয়ে ‘সবজি-ভাত’ সবাইকে নিতে হলো। কৃষি সৃষ্টি জোশ যেন সব একাকার করে দিল। ট্রাকটর, বীজ, সার, ইরি, জেলে-নৌকা, সয়াবিন উত্পাদন রাজনীতির জোশ তেমন কি আছে? ‘উত্পাদন বাড়াই, জনসংখ্যা কমাই’। উত্পাদন যুদ্ধসহ পৃথিবীটাকে মাথা উঁচু করে আবার দেখিয়ে দেওয়ার সময় এখনই। ভৌগোলিক মুক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির আদর্শিক দর্শনহীনতার টানাপোড়েনে এখনো দোল খাচ্ছে। এই দোলার কালো ব্যবসায়ীদের তৈরি দেওয়াল ভেঙে আমাদের শোষণহীন উত্পাদনভিত্তিক সুষম বণ্টন ও বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে হবে।
লেখক: প্রতিষ্ঠাতা, ডর্প এবং উত্পাদনযোদ্ধা