দেশে মোটরসাইকেলের বাজার রয়েছে ২১০০ কোটি টাকার

স্থানীয় শিল্পের দখলে মাত্র ২০ কোটি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশে ক্রমেই প্রসারিত হওয়া মোটরসাইকেল পণ্যের বাজার প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর প্রায় পুরোটাই বিদেশি পণ্যের দখলে। স্থানীয় মোটরসাইকেল শিল্পের অংশ মাত্র ২০ কোটি টাকা। গতকাল বুধবার এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অনলাইন সেমিনারে (ওয়েবিনার) এ তথ্য জানানো হয়। আলোচনায় বক্তারা স্থানীয় মোটরসাইকেল শিল্পের প্রসারে লাগসই ও দ্রুত সরকারি নীতিমালার ওপর জোর দিয়ে বলেন, তা সম্ভব হলে আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। দেশীয়ভাবে এসব উপকরণ উত্পাদন সম্ভব হলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে উত্পাদন ব্যয় হ্রাস ও বিপণন বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।

‘হালকা প্রকৌশল শিল্প : মোটরসাইকেল শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ উন্নয়ন প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ঐ ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প সচিব কে এম আলী আজম। এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে খাতসংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন। 

ওয়েবিনারে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে সাতটি স্থানীয় ও আটটি আন্তর্জাতিক উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৩৮টি মোটরসাইকেল উত্পাদন ও সংযোজনকারী শিল্প রয়েছে। এ শিল্পের বার্ষিক উত্পাদন আনুমানিক ৪ লাখ ৪০ হাজার ইউনিট। এটি মোট চাহিদার ৮০ শতাংশ। এ শিল্পের উন্নয়নে ইতিমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। কিন্তু এখনো এ শিল্পের অধিকাংশ উপকরণ বিশেষত মোটরসাইকেল চেসিস, চাকা, হ্যান্ডেল বার, ব্রেক সিস্টেম, ফুয়েল ট্যাংক, প্লাস্টিকের পণ্য (মাড গার্ড, ফেন্ডার, সাইড কভার) বিদেশ থেকে আমাদনি করতে হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) মহাপরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, মোটরসাইকেল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান খান ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।