চলে গেলেন নিবেদিতপ্রাণ নাট্যব্যক্তিত্ব মান্নান হীরা। রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে গতকাল বুধবার তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি ছিলেন একাধারে নাট্যকার, নির্দেশক ও পথনাটক পরিষদের সভাপতি। মঞ্চনাটক, টেলিভিশন ও পথনাটক রচনাই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান। তার মৃত্যুতে নাট্যাঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রিয় নাট্যকর্মীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে অনেকেই হাসপাতালে ছুটে যান। জানা যায়, বিকেলের দিকে হঠাত্ বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালটিতে ভর্তির পর তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। সেখানেই আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মান্নান হীরার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মান্নান হীরা সারাজীবন ধরেই নিরন্ন শ্রমজীবী মানুষের কথা তার নাটকে তুলে এনেছেন। বাংলার কৃষক, তাদের বঞ্চনা, দারিদ্র্যের আখ্যান প্রকাশিত হয়েছে তার নাটকে, চরিত্রের সংলাপে। মানুষের কথা বলতে গিয়ে উঠে এসেছে রাজনীতি। মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থার। বাংলাদেশের পথনাটক তার হাত ধরেই বেড়ে উঠেছে। দেশে পথনাটকের প্রসার যেমন বেড়েছে, তেমনি বিদেশে নাম কুড়িয়েছে তার পথনাটক। তার অনেক নাটক ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, হংকংসহ অনেক দেশে প্রদর্শিত হয়েছে।
তার জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলায়, ১৯৫৬ সালে। নাট্যচর্চার শুরু থেকেই তিনি আরণ্যক নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
মান্নান হীরা রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে আছে ‘ক্ষুদিরামের দেশে’, ‘ফেরারী নিশান’, ‘আদাব’, ‘ঘুমের মানুষ’ ‘মৃগনাভি’, ‘শেকল’, ‘জননী বীরাঙ্গনা’, ‘মণিমুক্তা’, ‘একাত্তরের রাজকন্যা’, ‘মেহেরজান, ‘ফুটপাত’, ‘রেফারী’, ‘বাংলার বাদশা’, ‘সুখদৈত্য’, ‘লাল জমিন’ প্রভৃতি। নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্র। ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন মান্নান হীরা। তার আগে মান্নান হীরা ‘গরম ভাতের গল্প’ ও ‘৭১-এর রঙপেন্সিল’ নামে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি পরিচালনা করেন।