মা শিমা বেগমের কোল থেকে দুই মাস বয়সের কন্যাশিশু তাইবাকে নিয়ে পালিয়েছে অজ্ঞাত এক নারী। গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ওই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাটি আমলে নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিমা বেগম নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের মশিন্দা মাঝপাড়া গ্রামের তৌফিজ মোল্লার স্ত্রী।
শিশুটির মা শিমা বেগম জানান, বুধবার সকালে তিনি শিশুটিকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামরুবেলার টিকা দিতে গিয়েছিলেন। হাসপাতালের পুরনো ভবনের নিচতলায় বোরকা পড়া অপরিচিত এক নারীর সাথে তার কিছু সময়ের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে আলাপচারিতা চলছিল। একপর্যায়ে শিশুটিকে আদরের ছলে কোলে নেন ওই মহিলা। সে সময় তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে ওষুধ নিতে যান। ফিরে এসে ওই নারী ও তার শিশু সন্তানকে তিনি পাননি।
এ ঘটনায় হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে গুরুদাসপুর থানার উপ-পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে হারিয়ে মা শিমা বেগম হাসপাতাল চত্বরেই হাউমাউ করে কাঁদছিলেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মুজাহিদুল ইসলাম গুরুদাসপুর থানার দ্বারস্থ হন।
হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটিকে নিয়ে যখন অপরিচিত ওই মহিলা পালাচ্ছিলেন তখন সময় সকাল ১০টা ২২ মিনিট। তড়িঘড়ি করে ৫ মিনিটের মধ্যেই হাসপাতাল চত্বর ত্যাগ করেন ওই মহিলা।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোজাহিদুল ইসলাম জানান, মাস দুয়েক আগে হাসপাতালেই তিনি ওই মহিলার সিজারিয়ান অপারেশন করেন। তখন তাইবা নামের ওই কন্যাশিশু জন্ম নেয়।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, ভুক্তভোগী শিমা বেগমের মারুফ (১০) ও মাহমুদা (৭) নামের আরো দুই সন্তান রয়েছে। হাসপাতালের সিসিটিভিতে শিশু তাইবাকে নিয়ে পালানো ওই নারীকে দেখা গেলেও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।
ইত্তেফাক/বিএএফ