বন্ধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) ২৫টি পাটকল আবার চালু হচ্ছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ভাড়াভিত্তিক ইজারা পদ্ধতিতে মিলগুলো চালু হবে। এজন্য সম্প্রতি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মোহাম্মদ আবুল কালামকে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট আন্তঃমন্ত্রণালয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন :বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পাট), অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি, শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) নির্বাহী পরিচালক।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বন্ধ মিলসমূহ পুনরায় চালুর লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বানের বিজ্ঞপ্তির খসড়া পরীক্ষা ও চূড়ান্তকরণে এ কমিটি কাজ করবে। এছাড়া পাটকলগুলো নেওয়ার ব্যাপারে উদ্যোক্তাদের প্রস্তাব নিষ্পত্তি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারি স্বার্থ রক্ষায় করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ দেবে এই কমিটি।
এ প্রসঙ্গে কমিটির আহ্বায়ক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মোহাম্মদ আবুল কালাম গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বন্ধ পাটকলগুলো আবার চালুর ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পাটকলগুলোর অবকাঠামোর যাতে সদ্ব্যবহার হয়। সেই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় সেজন্য পাটকলগুলো চালুর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে নয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ভাড়াভিত্তিক ইজারা পদ্ধতিতে চালু করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে যে শ্রমিকরা এই পাটকলগুলোতে কাজ করেছেন, আশা করছি, তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হবে।
উল্লেখ্য, লোকসানের কারণে চলতি বছরের জুলাইতে ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেওয়া হয়েছে। আর এর মধ্যে দিয়ে অবসান ঘটে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল যুগের। অথচ স্বাধীনতার পর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পাটের অবদানই ছিল সবচেয়ে বেশি।
পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে মূলত :লোকসানের কারণেই চলতি বছরের জুলাইতে পাটকলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু লোকসানের জন্য দায়ী যে ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি আর দুর্নীতি তা বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কাঁচা পাট ক্রয় থেকে শুরু করে পাট পণ্য উত্পাদন ও বাজারজাতকরণ সবক্ষেত্রেই ছিল দুর্নীতি আর লুটপাট। অথচ সরকারি পাটকলগুলো লোকসানের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হলেও বেসরকারি পাটকলগুলো মুনাফা করছে। করোনা মহামারির মধ্যেও গত অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এর আগে বেসরকারি খাতে যে পাটকলগুলো দেওয়া হয়েছিল সেগুলোর অভিজ্ঞতা ভালো না। অনেকে পাটকলগুলো নেওয়ার পর যন্ত্রপাতি বিক্রি করে চলে গেছে। পাটকলের জমি ব্যবহার করেছে অন্য খাতে। তাই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পাটকলগুলো দিলেও সেগুলো কীভাবে চলবে-তা আগেই ঠিক করতে হবে।
ইজারার নামে যে লুটপাট না হয়—সে বিষয়ে আগেই চিন্তাভাবনা করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সরকার পাটকলগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগে বেসরকারিখাতে বিভিন্ন পাটকল ছেড়ে দিলেও সেগুলো ভালো চলেনি। কারণ, যে সব উদ্যেক্তা ইজারা নিয়েছিলেন তারা পাটকলের যন্ত্রপাতি বিক্রিসহ নানা অনিয়ম করেছেন। তবে এই ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে চুক্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।