বাংলাদেশ-তুরস্ক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক দ্বিগুণ করার প্রত্যয়

উন্নয়নের স্বার্থে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানের প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার থেকে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও তুরস্ক। বাংলাদেশের একাধিক খাতে বিনিয়োগ করতে চায় তুরস্ক। দেশটি সামরিক সরঞ্জাম খাতেও বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার আগ্রহ দেখিয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মেভলুত কভসগ্লু গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতি স্বল্প সময়ে অর্থনৈতিক খাতে বাংলাদেশ যে উন্নয়ন করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার ‘উদীয়মান তারা’ (রাইজিং স্টার)। এখানে প্রচুর সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে, যেখানে বিনিয়োগ করা যায়। তুরস্কের বড় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সামরিক সরঞ্জাম এবং অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে তুরস্ক বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায়। অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে তুরস্ক বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া সামরিক খাতের ৭৫ শতাংশ সরঞ্জাম তুরস্ক নিজেই উত্পাদন করে, যা মানসম্মত এবং বিশ্বে এর সুনাম রয়েছে। এই খাতে তুরস্ক, বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামরিক সরঞ্জাম উত্পাদন সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতেও তুরস্ক প্রস্তুত রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ ভিত্তিতে সামরিক সরঞ্জাম উত্পাদন করতে চায় তুরস্ক। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াই হচ্ছে এই সংকটের একমাত্র সমাধান।