প্রসঙ্গ : ৫৬ বছরে বিটিভি

বিটিভি তাদের বর্ষপূর্তিতে চ্যানেলটি নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর প্রয়াস নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠানের পরিবর্তনসহ ডিজিটাল কন্টেন্ট নিয়ে কাজ শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিজেদের ভাবনা ও পরিকল্পনা নিয়ে বলেছেন বিটিভির মহাপরিচালক এসএম হারুন-অর-রশীদ

কিছুদিন আগে আমাদের ছেড়ে গেলেন আলী যাকের। এদেশের অভিনয়ের বরেণ্য মানুষ ছিলেন তিনি। মঞ্চ, টিভি, সবখানেই দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি বিটিভিকে সমৃদ্ধ করেছেন তার অভিনয় দিয়ে। তার অভিনীত অনেক নাটক বিটিভিতে সুপারহিট হয়েছে। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। একে একে সব গুণী মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ২৩ ডিসেম্বর রাতে খবর পেলাম বন্ধু অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক মান্নান হীরা চলে গেছেন। বর্তমানে আব্দুল কাদের খুবই অসুস্থ। খবর পেয়েছি বরেণ্য অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরও অসুস্থ। তাদের জন্য বিটিভির পরিবারের পক্ষ থেকে প্রার্থনা করছি।

বাংলাদেশের সরকারি গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বিটিভির ৫৫তম বর্ষপূর্তি আজ। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর পাকিস্তান টেলিভিশন নামে চালু হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এরপর স্বাধীনতার পরের বছর সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশ, মাটি ও মানুষের কথা বলার ব্রত নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। ১৯৮০ সালে দর্শকদের রঙিন পর্দা উপহার দেওয়ার মাধ্যমে নতুন যুগে পা রাখে বিটিভি। এখন বিটিভি ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে দেশের বাইরেও নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে। দর্শকের কাছে পৌঁছাতে যুগোপযোগী পরিবর্তনের অঙ্গীকার আর প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে এবার ৫৬ বছরে পা রাখলো গণমাধ্যমটি। এই পথচলায় সবার সহযোগিতা চাই আমরা।

গণমানুষের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার ও বিনোদনের যে সাধারণ চাহিদা তা আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে থাকি বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে। টেলিভিশনকে তো পিছিয়ে থাকলে চলে না, তাই একবিংশ শতাব্দিতে এসে অন্যান্য টেলিভিশনের মতো আমরাও যুগোপযোগী হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামীবছর ফুল এইচডিতে বিটিভিকে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। বিটিভিতে সবসময় প্রান্তিক মানুষদের সুযোগ দিতে হয়। হয়তো সেই কারণে কাঁদা-মাটির মানুষ এবং অনুষ্ঠান আমাদের এখানে বেশি। আর জনরুচির ইতিবাচক পরিবর্তনকে অনুপ্রেরণা জোগানো হলো বাংলাদেশ টেলিভিশনের দায়িত্ব। এজন্য আমরা ডিজিটাল কন্টেন্ট ও প্রোগ্রাম তৈরি করছি, যেগুলো এই মুজিববর্ষে শিগগিরই প্রচার করা হবে।

এছাড়া বিটিভি নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। বিটিভির অনুষ্ঠান ক্রমশই আধুনিক হচ্ছে এবং বিষয়-বৈচিত্র্যে সাজানো জনবান্ধব অনুষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আমরা দর্শককে আরো বেশি বিটিভির সঙ্গে সংযুক্ত করতে খবর ও বিনোদনের পাশাপাশি দর্শকবান্ধব অনুষ্ঠানের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা ভালো চিত্রনাট্য লেখেন এমন লেখকদের আহ্বান জানাচ্ছি তাদের লেখা নাটক নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। আমাদের এই টেলিভিশন জনগণের টেলিভিশন, আমাদের এই টেলিভিশন রাষ্ট্রের টেলিভিশন, এই টেলিভিশন মানুষের টেলিভিশন। সুতরাং এই টেলিভিশনে প্রচারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে সবাইকে মতবাদ দেওয়া ও অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এই বিজয়ের মাসে আমরা সবাইকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে জানাচ্ছি মুজিববর্ষের শুভেচ্ছা।