বিটিভি’র ৫০ বছরের স্মৃতিস্মারক

১৯৩৬ সালে বিবিসি প্রথম টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করে। তারও ২৮ বছর পর ঢাকার অধিবাসীরা টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখা শুরু করে। বলা বাহুল্য, এই উপমহাদেশে প্রথম টেলিভিশন দেখার সৌভাগ্য হয় ঢাকার দর্শকদের। ৬৪-র পর ১৯৯৯। আবার ৩৫ বছর পর এই ঢাকা শহরেই সূচনা হলো ডিজিটাল স্যাটেলাইট টেলিভিশন। এখন ২০২১। মানুষ বলছে, টেলিভিশনের আর কোনো ভবিষ্যত্ নেই। দর্শক টেলিভিশন দেখার আগ্রহ হারাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কী তা হচ্ছে? টেলিভিশন পরিবারের সঙ্গী এবং বন্ধু। এখন দিন পাল্টেছে, পরিবারের সব বয়সের সদস্যরা যে যার মতো টেলিভিশন দেখার চেষ্টা করে। কেউ নাটক, কেউ খেলা, কেউ গান, আরো কতরকম অনুষ্ঠান। রূপ পাল্টেছে টেলিভিশন সেটেরও। কেউ পছন্দ করে ১০০ ইঞ্চি টেলিভিশনের পর্দা। আবার কেউ কেউ হাতের ৬ ইঞ্চি ফোনের কাঁচের পর্দা। কেউ দেখতে পছন্দ করে টেলিভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান। কিংবা কেউ ওটিটি প্লাটফর্মে বা ইউটিউবে পছন্দের নির্ধারিত অনুষ্ঠান। কিন্তু একদিনে এই বিবর্তন আসেনি, এই যে বিবর্তন টেলিভিশনকে কেন্দ্র করে সেই স্মৃতি ধরে রেখে আমার বই লেখার চেষ্টা। এই লেখাকে কোনোভাবেই কেউ যেন আমার স্মৃতি লেখার বাইরে কিছু মনে না করেন। আর আমার এই স্মৃতিকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করেছে গত ৫৫ বছর যারা এই দেশের টেলিভিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের অনেকেই। এই বইতে যাদের ভূমিকা সন্নিবেশিত হয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আর সর্বশেষ এই সংস্করণটিতে একটি ভূমিকা লিখে দিয়েছেন প্রখ্যাত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। তবে ভূমিকা লেখার জন্য নয় পুরো বইটা পড়ে একটা মূল্যায়ন যে তিনি করেছেন সেই জন্য তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। এই বই প্রকাশের সঙ্গে আদ্যোপান্ত জড়িত ছিল আমীরুল ইসলাম এবং অন্য প্রকাশের সত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম। যদিও পূর্ব প্রকাশিত ৩টি বই নিয়ে একটি বই বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর।

[বিটিভিকে নিয়ে লেখা নিজ গ্রন্থ ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের ৫০ বছর’ প্রসঙ্গে লেখক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও কথাসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের বক্তব্য]