শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন

রংতুলির শ্রেষ্ঠ জাদুকর

মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে কলকাতায় গিয়েছিলেন শুধু গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখার জন্য। মা তাঁর আগ্রহ দেখে নিজের গলার হার বিক্রি করে ছেলেকে কলকাতার তখনকার আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে সাহায্য করেন। তিনি রংতুলির শ্রেষ্ঠ জাদুকর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। জয়নুল আবেদিন ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত কলকাতার সরকারি আর্ট স্কুলে পড়েন। ১৯৩৮ সালে ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

জয়নুল আবেদিন বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম বাঙালি চিত্রশিল্পী। পূর্ববঙ্গের প্রথম প্রজন্মের শিল্পীদের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। জন্মেছিলেন ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর তত্কালীন ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার কেন্দুয়ায়। বাবা তমিজউদ্দিন আহমদ, মা জয়নাবুন্নেছা। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছবি আঁকতে পছন্দ করতেন।

তাঁর উদ্যোগে ১৯৪৮ সালে পুরান ঢাকার জনসন রোডে গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউট স্থাপিত হয়। ১৯৭১-এ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর একই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বাংলাদেশ চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়’। তাঁর প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে লোকশিল্প জাদুঘর ও ময়মনসিংহে জয়নুল সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠিত হয়। অনুমান করা হয়, তাঁর চিত্রকর্মের মোট সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ছবির জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।

১৯৬৮ সালে ঢাকা আর্ট কলেজের ছাত্রদের তরফ থেকে ‘শিল্পাচার্য’ উপাধি এবং ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে জাতীয় অধ্যাপকের সম্মান লাভ করেন।

জয়নুল আবেদিন ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় মারা যান। চারুকলা ইনস্টিটিউটে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।