২৫ ডিসেম্বর তারিখটি উল্লেখ করলে সারা পৃথিবীর সব শিশু-কিশোর-কিশোরীর চোখে ভেসে ওঠে একটি ছবি ‘ক্রিসমাস ট্রি’। সান্তাক্লজ সেজে কেউ কেউ ছোটদের জন্য উপহার নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়ায়। খ্রিস্ট ধর্মের শিশুরা এই দিন ঘরের বাইরে মোজা রেখে দেয় যেন সেটাতে সান্তাক্লজ উপহার রেখে যেতে পারে। এই দিনটিকে বড়দিন হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। খ্রিস্টধর্মের সবচেয়ে বড়ো ধর্মীয় উত্সব ‘ক্রিসমাস’। এই উত্সবের বয়স দু’হাজার বছর ছাড়িয়েছে। খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্টের জন্মবার্ষিকীতে প্রতি বছর এ উত্সব পালন করে খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীরা। খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে গির্জার কর্তাব্যক্তিরা যিশুর জন্মদিনকে ছুটির দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাইবেলে যিশুর জন্মতারিখ সম্পর্কে উল্লেখ নেই! পোপ প্রথম জুলিয়াস যিশুর জন্মদিন হিসেবে শীতকালের এ সময়টিকেই নির্ধারণ করেন।
বর্তমানে গ্রিস ও রাশিয়ার সনাতন গির্জাগুলোতে ২৫ ডিসেম্বরের ১৩ দিন পরে ক্রিসমাসের আয়োজন করা হয়, যা এপিফানি অথবা থ্রি কিংস ডে নামেও খ্যাত।
মার্কিন রেভ্যুলেশনের পর পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ইংলিশ রীতিনীতি ছুড়ে ফেলার হিড়িক পড়ে। এগুলোর মধ্যে ক্রিসমাসও অন্তর্ভুক্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিসমাসকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করা হয় অনেক পরে, ১৮৭০ সালের ২৬ জুন। মার্কিনরা ঊনবিংশ শতাব্দীর আগপর্যন্ত ক্রিসমাসকে সাদরে গ্রহণ করেনি। ইউরোপে যেভাবে ক্রিসমাস উদ্যাপন করা হতো, মার্কিনরা তার আমূল পরিবর্তন আনে। তারা এ দিনটি পরিবারের সঙ্গে আনন্দ আয়োজন ও স্মৃতি রোমন্থনের মাধ্যমে কাটানোর রেওয়াজ চালু করে।
১৮১৯ সালে কিংবদন্তি লেখক ওয়াশিংটন আরভিং লেখেন ‘দ্য স্কেচবুক অব জোফ্রে ক্রেয়ন’ নামের একটি গল্পের সিরিজ। গল্পগুলো ছিল এক ইংরেজ পরিবারে তাঁর কাটানো ক্রিসমাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে। তাঁর এ বইটি আমেরিকায় ক্রিসমাসের উদ্যাপন পরিবর্তনে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। আরো এক প্রথিতযশা লেখক চার্লস ডিকেন্সের ‘দ্য ক্রিসমাস ক্যারল’ বইটির ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। এ বইটির মাধ্যমে ডিকেন্স দেখান যে, ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভোলার জন্য একটি বড়োসড়ো ধর্মীয় ছুটির দিন কতটা প্রয়োজন! যুক্তরাষ্ট্রে ও ইংল্যান্ডে ডিকেন্সের এ মতবাদ বেশ প্রভাব ফেলে। এভাবেই প্রগতিশীলদের অবদানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিসমাস অনুষ্ঠান আজকের জনপ্রিয়তার পর্যায়ে পৌঁছায়।
অলংকরণ : শ্রেয়সী সাহা
চতুর্থ শ্রেণি, উইলস লিটিল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা