g তাওহিদুল ইসলাম প্রান্ত
ভোরবেলা কাক ডাকার আগেই, মোবাইল ডাকতে শুরু করল। হাতে নিয়ে দেখি মামা কল করছে। এই ভোরে কাক ডাকার আগে মামা কেন কল দিচ্ছে ঠিক বুঝলাম না।
আমি রিসিভ করে হ্যালো বলার আগেই, মামা তার বক্তব্য শুরু করল।
‘প্রান্ত তুই এখনো ঘুমাচ্ছিস? উঠে তাড়াতাড়ি আমার এখানে আই। তোর ইমুতে কল যাচ্ছে না, নেট দুর্বল, মোবাইলের টাকা সব চলে যাচ্ছে, বিস্তারিত এলে বলব।’
চোখ কচলাতে কচলাতে মামার এখানে হাজির হলাম। মামা দেখছি আম গাছের ওপর উঠে বসে আছে মোবাইল নিয়ে। আমাকে দেখে নেমে এল। ‘এলি তুই, মোবাইলটার কি হলো কিচ্ছু বুঝতেছি না সকাল থেকে নেট চলে না। রাতে বন্ধুরা মিলে ডাব চুরি করে খাওয়ার ছবিগুলো কোনোমতেই ফেসবুকে আপলোড দিতে পারছি না। তুই তো মোবাইলের মাস্টার, দেখ না একটু কী সমস্যা?’
মামা মনে হয় গতকালের নেট ‘টুজি’-তে আগমন হওয়ার ঘোষণার ব্যাপারে জানে না। এই শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠানোর প্রতিশোধ নিতেই হবে মামা থেকে।
মামাকে বললাম, ‘কোনো কিছু দুর্বল হয়ে গেলে তার একটা জিনিসই দরকার—ভিটামিন। কী বল মামা?’
মামা মাথা নাড়তে নাড়তে বলল, ‘একদম ঠিক। এই যে নেটটা দুর্বল হয়ে গেল তারও ভিটামিন দরকার।’
‘তুমি এক কাজ করো, ইফুর হরলিক্সটা নিয়ে এসো, সাথে একগ্লাস পানিও এনো।’
মামা ‘ঠিক আছে’ বলে, হরলিক্স আর পানি নিয়ে এলো। আমি পানিতে হরলিক্স মিক্স করে দিলাম মামার মোবাইলের ওপর ঢেলে। মামা এই দৃশ্য দেখে স্ট্যাচু হয়ে গেলেন। নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেছে। আমি পকেটে হাত ঢুকিয়ে শিস দিতে দিতে চলে এলাম মামা দৌড়ানি দেওয়ার আগেই। মামার মোবাইল হয়তো এতক্ষণে ভিটামিন পেয়ে ডেড হয়ে গেছে।
হাটহাজারী, চট্টগ্রাম