সত্যজিত্ বিশ্বাস
আর যায়?
প্রথম বন্ধু :কীরে, মুখ এমন করে রেখেছিস ক্যান? দাঁতে ব্যথা?
দ্বিতীয় বন্ধু :মজা কম নে। খুব প্যারায় আছি রে। বৌ বাণিজ্য মেলায় যাওয়ার জন্য পাগল বানিয়ে দিচ্ছে।
প্রথম বন্ধু :ও এই ব্যাপার। তোর ভাবিও তো আমাকে চেপে ধরেছিল।
দ্বিতীয় বন্ধু :তারপর?
প্রথম বন্ধু :আমি শুধু বললাম, ওখানের প্রায় সব স্টলেই কিন্তু সুন্দরী সেলসম্যান। তারপর থেকে ভুলেও আর বাণিজ্য মেলায় যাওয়ার কথা মুখে আনে না।
অতিথি না?
বাবা :অতিথি পাখিরা দূরদূরান্ত থেকে আমাদের দেশে শীতকালে কেন ছুটে আসে, জানো?
বাচ্চা :জানব না কেন? এটা তো খুব সহজ।
বাবা :তাই? তাহলে বলো তো কেন?
বাচ্চা :শীতকালে বার্ষিক পরীক্ষা হয়ে বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ হয়ে যায় না?
বাবা :তো?
বাচ্চা :পরিবারের সবাইকে নিয়ে অতিথিরা তো শীতকালেই বেড়াতে আসে।
কোনটা বড় নেশা
স্ত্রী :এত নেশা মানুষের হয়?
স্বামী :এ কথা বললে কেন?
স্ত্রী :কী এক বিপিএল শুরু হয়েছে, এক মুহূর্তের জন্য টিভির সামনে থেকে উঠাউঠি নেই। বিপিএল কর্তৃপক্ষ জানতে পারলে তোমাকে তো অ্যাওয়ার্ড দেবে। কী হলো, চুপ করে রইলে যে?
স্বামী :না, ভাবছি।
স্ত্রী :কী ভাবছ?
স্বামী :ভাবছি, বছরের পর বছর একই সিরিয়াল দেখার জন্য জি বাংলা কর্তৃপক্ষের তাহলে তোমাকে কী দেওয়া উচিত?
বাণিজ্য মেলায় দেখাদেখি
বাণিজ্য মেলায় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এক তন্বী তরুণী। ধারে কাছের সব পুরুষ তাকে ঘুরে ঘুরে দেখছে। একটা জুটি হেঁটে যাচ্ছিল পাশ দিয়ে। এ অবস্থা দেখে সেই জুটির মেয়েটি ছেলেটিকে বলল, ‘আচ্ছা বল তো ওই মেয়েটির মধ্যে এমন কী আছে, যার জন্য সব পুরুষগুলো নির্লজ্জের মতো ওকে ঘিরে আছে?’
ছেলেটি :এতদূর থেকে ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। একটু দাঁড়াও তো, সামনে গিয়ে দেখে এসে বলি।
কে জেতে?
প্রথম বন্ধু :বাণিজ্য মেলাটা আসলেই সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বিশাল লাভের জায়গা।
দ্বিতীয় বন্ধু :কেমন করে?
প্রথম বন্ধু :কেন দেখিস না, বাণিজ্য মেলার প্রায় সব স্টলেই মূল্যছাড় আর মূল্যছাড়।
দ্বিতীয় বন্ধু :হাঃ হাঃ হাঃ...
প্রথম বন্ধু :কী ব্যাপার, হাসছিস কেন?
দ্বিতীয় বন্ধু :তোর কী ধারণা বিক্রেতারা লস দেওয়ার জন্য এত টাকা দিয়ে স্টল দেয়?
প্রথম বন্ধু :না, ঠিক তা না।
দ্বিতীয় বন্ধু :তার ওপর আবার বিশাল মূল্যছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করে?
প্রথম বন্ধু :তাই তো, তাহলে?
দ্বিতীয় বন্ধু :তাহলে তুইই বল, কে জেতে শেষ পর্যন্ত?
কেনা আর টানা তো এক কথা না
সাংবাদিক :বাণিজ্য মেলায় কারা বেশি কেনাকাটা করে? ছেলেরা না মেয়েরা?
দোকানদার :এটা কোনো প্রশ্ন হলো! ছেলেদের না আছে ধৈর্য, না আছে টাকা খরচ করার ইচ্ছা।
সাংবাদিক :কিন্তু আমি তো দেখছি, বেশিরভাগ পুরুষদের হাতেই জিনিসপত্র।
দোকানদার :কেনা আর টানা তো এক কথা না ভাই।
অভিযোগ
স্ত্রী :দিনরাত খালি বিপিএল, বিপিএল আর বিপিএল। ব্যাট হাতে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি, বল হাতে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি, একই জিনিস প্রতিদিন দেখতে ভালো লাগে?
স্বামী :বিয়ে হয়েছে আজ সাত বছর, প্রতিদিন এক জিনিস দেখা নিয়ে কখনো আমাকে অভিযোগ করতে দেখেছ?
সমস্যা কোথায়
ক্যাপ্টেন :হায়রে কপাল, একটা বলটাও ঠেকাতে পারলে না? চোখে সমস্যা নাকি?
ব্যাটসম্যান :বুঝতে পারছি না। বোলারকে তো ছুটে আসতে দেখলাম।
ক্যাপ্টেন :তারপর?
ব্যাটসম্যান :তারপর আর কিছু দেখলাম না।
যখন বুঝি, তখন আর সময় থাকে না
কোচ :এত কম রান করে কি জেতা যায়? তোমরা তো বল সিলেকশনই করতে জানো না। কোনটা স্ট্রোক করার বল আর কোনটা ডিফেন্স খেলার বল, তাই বুঝতে পার না।
খেলোয়াড় :কে বলল বুঝি না?
কোচ :বুঝলে প্রতি ম্যাচে এত কম রানে আউট হয়ে আসো কেন?
খেলোয়াড় :যখন বুঝি, মানে বলটা যখন ছুটে আসে, তখন আর কিছু করার থাকে না বলে।
মূল সমস্যা
কোচ :তোমাদের মূল সমস্যা কী জানো? তোমরা মাঠে কনসান্ট্রেশনই রাখতে জানো না।
খেলোয়াড় :এ জন্য আপনি আমাদের দোষারোপ করতে পারেন না।
কোচ :তাহলে কাদের দোষ?
খেলোয়াড় :কেন? টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যানদের। বারবার গ্যালারিতে ক্যামেরা ঘোরালে কনসান্ট্রেশন থাকে?
সহজ সমাধান
টানা চার ম্যাচ হেরে খুলনার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এসেছে এক জ্যোতিষীর কাছে।
মাহমুদউল্লাহ :বাবা, আমরা এত চেষ্টা করেও টানা চার ম্যাচ হেরে বসে আছি কেন বলতে পারেন?
জ্যোতিষী বাবা :তোদের দলের নাম কী?
মাহমুদউল্লাহ :খুলনা টাইটানস।
জ্যোতিষী বাবা :নামের কারণেই তো এই অবস্থা।
মাহমুদউল্লাহ :তার মানে?
জ্যোতিষী বাবা :এমনেই নামের শুরুতে জয়ের খাতা খোলা নিয়ে ঝামেলা তার উপর টাইটানিক জুইড়া দিলে সেই দলের ডোবা ঠেকায় এমন সাধ্যি কার?
সব কথা শুনতে নেই
ক্যাপ্টেন :কী ব্যাপার, নামার সময় বারবার বললাম দেখে-শুনে, ধীরে-সুস্থে খেলতে। প্রথম বলেই সোজা বোল্ড আউট হয়ে আসলে যে?
ব্যাটসম্যান :তোমার কথা শুনতে গিয়েই তো এই অবস্থা হলো।
ক্যাপ্টেন :তার মানে?
ব্যাটসম্যান :ধীরে সুস্থে ব্যাট চালাতে গিয়েই তো দেখলাম স্টাম্প নেই।
এই ভয়েই তো
স্ত্রী :তোমার যে কী হয়েছে, সারাদিন খালি বিপিএল, বিপিএল আর বিপিএল। একটা দিন যদি এমন মনোযোগ দিয়ে আমাকে দেখতে, খুশিতে আমি হার্টফেল করতাম।
স্বামী :এই ভয়েই তো দেখি না।
বিশ্ব সুখী প্রতিবেদন
প্রথম বন্ধু :কীরে মুড অফ করে বসে আছিস কেন?
দ্বিতীয় বন্ধু :পেপারে একটা খবর পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল রে দোস্ত।
প্রথম বন্ধু :কেন, কী খবর?
দ্বিতীয় বন্ধু :বিশ্ব সুখী প্রতিবেদনের জরিপে দেখা গেছে ১৫৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৫-তে।
প্রথম বন্ধু :আরে ধুর, ওইসব ভুয়া রিপোর্ট করেছে।
দ্বিতীয় বন্ধু :ভুয়া রিপোর্ট কী করে বুঝলি?
প্রথম বন্ধু :এটা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়া লাগে নাকি? ফেসবুকে লগ ইন করলেই তো হয়। ঘুম ভাঙা থেকে ঘুমিয়ে পড়া পর্যন্ত আনন্দ, মাস্তির ছবিতে জীবন ভরপুর সবার।
সুখ তুমি কি
প্রথম বৃদ্ধ :সুখ জিনিসটা কী রে?
দ্বিতীয় বৃদ্ধ :কে জানি কী? সেই ছোট থাকতে শুধু নামই শুনছি। এই বুড়া বয়সে মরতে চললাম নিজেও পাইলাম না, কাউরে পাইতেও দেখলাম না।
শিক্ষা বাণিজ্য
প্রথম বন্ধু :কীরে, কেমন আছিস? কী করিস?
দ্বিতীয় বন্ধু :আছি ভালোই। একটা কিন্ডার গার্টেন স্কুুল দিয়েছি।
প্রথম বন্ধু :বলিস কী? তাহলে তো তুই বিরাট ব্যবসায়ী।