নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান এমনটি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাস এখন নতুনভাবে। জানি না আল্লাহ আমাদের মাফ করবেন কি না। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই, কারণ আমার কিছু স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের হাতে কয়েকটি প্রজেক্ট জমা দিয়েছিলাম। এর মধ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রজেক্ট পাস হয়েছে, এটি হবে। এর মধ্যে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ও আধুনিক রাস্তা হবে। যেটি নারায়ণগঞ্জের চেহারা বদলে দেবে। এখন যেমন ময়লার চেহারা সেটি আর থাকবে না। চাষাড়া থেকে আদমজী রাস্তার টেন্ডার হয়েছে। ৭ কিলোমিটারের উপরে এই সড়কেও ব্যয় হবে একশ কোটি টাকার উপরে। চাষাড়া থেকে যে সড়ক সেটিরও ডিপিপি হবে। এটির কাজ হবে। এটি পুরোটা আরসিসি হবে এবং এখানে হাজার কোটি টাকার উপরে কাজ হবে। ১১০ থেকে ২০ ফুট চওড়া হবে এবং জুরাইন পর্যন্ত যাবে।’
শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম এই কাজ হবে না, কারণ করোনায় আমাদের ৪ শতাংশ জিডিপি চলে গেছে অন্য খাতে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ কারণ তিনি শুধু এ প্রোজেক্ট দেখেনইনি, তিনি এটার যে খরচ তার সাথে আরো ভিজিভিলিটি খরচ যোগ করে বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগে আমি এসব উন্নয়নের কথা বলিনি। কারণ নারায়ণগঞ্জে একটি বিশেষ মহল আছে, যারা উন্নয়নের কথা বলে কিন্তু উন্নয়নের খবর পেলেই এরা তা আটকে রাখতে চেষ্টা করে। বিভিন্নভাবে তদবির করে যেন ফাইল আটকে যায় বা কাজগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এটা কারা চালায় আমি নাম বলতে চাই না।’
ঢাকা নারায়ণগঞ্জে ডাবল রেললাইন হচ্ছে জানিয়ে এমপি বলেন, ‘১৫ মিনিটে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ যাতায়াত করা যাবে এমন দ্রুতগামী দুটি ট্রেন চালু হবে। অচল শহরকে সচল করতে অনেক কাজ প্রয়োজন। আমার ২ বছর সময় লেগেছে রেলের যায়গা নিতে। কিন্তু একটি লাইনেই ২৭ বার শহরে ট্রেন প্রবেশ করে আর এতে শহরের যানজট কত হয় তা আপনারা ভালো জানেন। তাই আমি মন্ত্রীকে বলেছি ট্রেনটি চাষাড়া পর্যন্ত রাখলে ভালো হয়। তবে এক্ষেত্রে বন্দরের তারা কিভাবে আসবেন সেটি নিয়ে ভাবনা। এ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমানসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে একটি উপায় বের করা যাবে। চাষাড়া রেললাইন থেকে সেন্ট্রাল খেয়াঘাট পর্যন্ত যদি আমরা রাস্তা করতে পারি তাহলে তারা এই সড়কে এখানে যাতায়াত করতে পারবে। যানজটও কমবে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন যদি আমাদের সহযোগিতা চায় আমরা সেটা করতে প্রস্তুত। আমাদের লিংক রোডে ৪টি ওভারপাস ও আন্ডারপাস আছে। জালকুড়িতে ওভারপাস হবে, সস্তাপুর ভূইঘরে নিচে ও উপরে গাড়ি যাবে, আমরা প্রস্তুত করছি। এভাবেই পরিকল্পিত কাজ করতে হবে।'
শহরের যানজট সমস্যার কথা তুলে ধরে শামীম ওসমান বলেন, ‘এই সিটিতে পার হতে গেলে আমাকেই পুলিশের সার্জেন্টকে ৫ বার ফোন দিতে হয় রাস্তা ফাঁকা করার জন্য। নারায়ণগঞ্জে খাস জমি লুকিয়ে রাখে আমলাতন্ত্র। শেখ জামাল আইটি ইন্সটিটিউট সবচেয়ে কস্টলি করার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে ধন্যবাদ জানাই। এটি হবে নারায়ণগঞ্জে, আর এর জন্য আমি অনেক দৌড়ঝাঁপ করেছি। এটি হলে আইটি সেক্টরে আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক সুযোগ সুবিধা পাবে ও এগিয়ে যাবে। ৭টি হাইস্কুল হচ্ছে ১০ তলা এর মধ্যে ৩টি আমার এলাকায় হবে। যায়গা পাওয়াই দুষ্কর তবে কিছু যায়গা একোয়ার করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। এগুলো আমার দায়িত্ব তাই করেছি। ভোট পাওয়ার জন্য কিংবা তালি পাওয়ার জন্য কাজ করছি না। আমার সময় হয়েছে বিদায় নেওয়ার। কিন্তু যখন দেখি স্বাধীনতার ৫০ বছরে জাতির জনকের জন্ম শতবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলে দেবে তখন মনে হয় কাজ শেষ হয় নাই। এখন বুঝি মাত্র শুরু আমাদের। আগে জীবনের মায়া ছিল এখন আর নাই। স্বাধীনতা ভূখণ্ড ও শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশ্নে কোন আপোষ হবে না। বি কেয়ারফুল, কঠিন জবাব দেওয়া হবে কিন্তু। জনগণ এত কঠিন জবাব দেবে তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না।’
নিজের এলাকায় উন্নয়নের বিষয়ে বলেন, ‘ফতুল্লা এলাকার একটি কোনাও আর আরসিসি ছাড়া থাকবে না। অন্যান্য এমপিরা পেয়েছেন ২০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ, আমি এনেছি ৩৫ কোটি টাকা করে। যেদিন দেশের বাইরে গেলাম, সেদিন বিশেষ একটি প্রজেক্ট পাস করিয়েছি। আমার যতগুলি রাস্তা আছে সেগুলোর জন্য মোট ১৮৫ কোটি টাকা। কদমরসূল এলাকার যে ব্রিজটি হবে সেটি বিদেশি স্টাইলে হবে এবং সবচেয়ে আধুনিক হবে। দেশের অবস্থা ভালো থাকলে এ বছরেই কাজটি শুরু হবে।’
‘জাতির পিতা দুজন মানুষকে রেখে গেছেন। একজন তার কন্যা শেখ হাসিনা যিনি তার যে কষ্ট দুঃখ চেপে রেখে দীর্ঘ এত বছর কাজ করে গেছেন। বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছেন, হত্যার বিচার করেছেন যুদ্ধাপরাধের বিচার করেছেন। কিন্তু তার আরেক কন্যা শেখ রেহানা কান্নাও করতে পারেননি চিৎকার করে। তিনি অনেক অল্প বয়সে বাবা মা হারিয়েছেন। আর তাই আমি প্রস্তাব দিয়েছি উনার নামে যেন নারায়ণগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজটি হয়। আমাকে বলা হয়েছে আপাকে রাজী করানোর জন্য তবে আমি এখনো রাজি করাতে পারিনি। আর এজন্য এটি হচ্ছে না। আমি জানি না উনি রাজী হবেন কি না।’
‘বঙ্গবন্ধুর মেয়েতো ধানমন্ডিতে যে প্রোপার্টি ছিল ২শ কোটি টাকা দাম যেটা বঙ্গবন্ধু পরিবারকে দেওয়া হয়েছিল, উনার নামে দেওয়া হয়েছিল। তবে উনি সেটা ফেরত দিয়েছেন। কারণ তাদের কোন অর্থের লোভ নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের বিউটি হচ্ছে কবরস্থান, শ্মশানসব পাশাপাশি। এর মাঝে দেওয়া দেয়াল ছিল না আগে সেটা আমার কাছে ভালো লাগতো, কারণ মৃত্যুর পরেও আমরা সবাই একসাথে থাকতাম। এর মাঝে এখন দেয়াল দেওয়ায় সেটি আমি মনে করছি আগেই ভালো ছিল। অন্তত মৃত্যুর পরে আমরা সবাই একসাথে থাকতাম।’
শামীম ওসমান বলেন, ‘আইন মন্ত্রীকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম আমি নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের পাশে বড় বিল্ডিং যেটা আছে সেটাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দিয়ে দেন হাই ক্লাসের হার্টের ইন্সটিটিউট করার জন্য। বড় ধরনের স্ট্রোক হলেও আধা ঘণ্টার মধ্যে যদি হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারে এবং ইলেকট্রিক শক যদি দেওয়া যায় তাহলে কিন্তু সে রিকভার করতে পারেন। চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর কষ্টটা তাহলে আর আমাদের পরিবারে থাকবে না।’
‘মরেই তো যাবো মরতে হবে এটাই একমাত্র সত্যি। মরেই যেহেতু যাবো সম্পদের দিকে লোভ করা উচিত না। বিশেষ করে যে সম্পদ মসজিদ মন্দির কিংবা গির্জার সম্পত্তি। কোরআনে লেখা আছে ১টি জমিও যদি কেউ বেদখল করে রোজ কেয়ামতে আল্লাহ তার গলায় ওহুদ পাথর চাপিয়ে দেবেন। নারায়ণগঞ্জে এরকম আলোচনা হচ্ছে তবে আমি এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। সৃষ্টিকর্তার সম্পদের কোন মূল্য হয় না। এটা মহামূল্যবান। আর এ থেকে সকলের সরে আসা উচিত। ভুল মানুষেরই হয়। ভুল স্বীকার করলে মানুষের সম্মান বৃদ্ধি পায়, কমে না।’
ইত্তেফাক/জেডএইচ