মো. শফি আলম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
মাঠে মাঠে কাঁচা সোনা সরিষা ফুলের হলুদ উত্সব। সবুজ প্রকৃতি হলুদ রঙ ধারণ করেছে। কুয়াশা ও ঝিকিঝিকি রোদের খেলা এখন সরিষা ফুলে।
দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ। যদ্দূর চোখ যায় শুধু হলুদের মাখামাখি। প্রজাপতি, মৌমাছি, হলুদিয়া-নীলরঙা পাখি, পোকামাকড় থেকে শুরু করে অনেককেই দেখা যায় এই রাজ্যে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ছবির ফ্রেমবন্দি হতে সবাই যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ে হলুদের রাজ্যে। যারা শহরে থাকেন, তাদের বলছি রাজধানীর অদূরে মানিকগঞ্জের ঘিওরে বসেছে হলুদের মেলা। সময় থাকলে দেখে যেতে পারেন সবুজ মাঠে হলুদের সে খেলা। এ তো গেল সৌন্দর্যের কথা। আর্থিক দিকই বা বাদ থাকবে কেন। রাধাকান্তপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মুন্নাফ মিয়া জানান, তিনি ৩ একর জমিতে সরিষা আবাদ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। গত ১০ বছর যাবত্ আবাদযোগ্য জমিতে সরিষা চাষ করে প্রতি মৌসুমে ২০/৩০ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত লাভ করেন। চলতি মৌসুমে সরিষার ফলন ভালো হলে আরো বেশি লাভের আশা তার।
বানিয়াজুরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামের কৃষক মো. কবির জানান, ভালো বীজ শনাক্ত করে সঠিক সময়ে বীজ বপন করলে এবং বিভিন্ন প্রকার সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে আগাম ফলন ফলিয়ে তা বাজারজাত করতে পারলে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে অধিক লাভ করা সম্ভব হবে। এক বিঘা সরিষা চাষ করতে খরচ হয় এক থেকে দেড় হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে বিঘায় ৪-৫ মণ সরিষা উত্পাদন হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের সহপরিচালক কৃষিবিদ আশরাফ উজ্জামান জানান, এ এলাকার জমি বেলে, দো-আঁশ হওয়ায় পানি ধারণের ক্ষমতা কম। পানি ধারণক্ষমতার জন্য জমিতে জৈব সারের প্রয়োজন। ফলে সরিষার ফলন যেমন ভালো হয়, তেমনি জমির উর্বরতা শক্তিও বৃদ্ধি পায়। তিনি আরো বলেন, মানিকগঞ্জে এবার প্রায় ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। সরকার বারি ১৪ জাতের বীজ সরবরাহ করায় এবার ফলন ভালো হয়েছে।