প্রায় ১৩ বছর আগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গাইবান্ধা থেকে নিখোঁজ হন মোমেনা বেগম (৫০)। সীমান্ত পেরিয়ে চলে যান নেপালে। গত বৃহস্পতিবার সেই মোমেনা পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসেন। তবে ফিরে পেলেন না স্বামী-সংসার।
মোমেনা বেগম গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কামারদহ ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামের মৃত আজিজার রহমানের মেয়ে এবং পার্শ্ববর্তী পলাশবাড়ী উপজেলার বৈরী হরিণমারী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস আলীর স্ত্রী। নেপালের চিতওয়ান শহরের ‘মানবসেবা আশ্রম পরিবার’ নামে একটি সংগঠনের কর্মীরা তাকে দীর্ঘদিন চিকিত্সাসেবা দিয়ে সুস্থ করে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেন। তবে স্বামীর সংসারে জায়গা না পেয়ে মোমেনা বেগমের আশ্রয় মিলেছে গোবিন্দগঞ্জের ঘোড়ামারা গ্রামে বড় বোন আফরোজা বেগমের বাড়িতে।
সময় বড় নির্দয়, সে কারো জন্য অপেক্ষা করে না। মোমেনা নিখোঁজ হওয়ার দুই বছর পর তার স্বামী আব্দুল কদ্দুস আলী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরই মধ্যে মোমেনার মা-বাবাও মারা গেছেন। আর মোমেনার পাঁচ সন্তান আশ্রয় পেয়েছে তাদের দুই খালার বাসায়।
কামারদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ শরিফুল ইসলাম রতন জানান, মানসিকভাবে অসুস্থ মোমেনা ১৩ বছর আগে হঠাত্ একদিন দুই মেয়ে ও তিন সন্তান রেখে নিখোঁজ হন। মোমেনা এবং নেপালের সেই আশ্রমের কর্মীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, মোমেনা বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেশের সীমানা পেরিয়ে চলে যান নেপালের চিতওয়ানের রামনগরের এক জঙ্গলে। বনে-জঙ্গলে উদ্দেশ্যবিহীন ঘুরে বেড়ান মানসিক ভারসাম্যহীন মোমেনা। আট আটটি বছর এভাবেই কেটে যায়। বছর পাঁচেক আগে ‘মানবসেবা আশ্রম পরিবার’ নামক সংগঠনের কর্মীরা মোমেনাকে ঐ জঙ্গল থেকে উদ্ধার করেন। সেই আশ্রমে তাদের সেবা-শুশ্রূষায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। কয়েক দিন আগে নিজের ঠিকানা বলতে সক্ষম হন মোমেনা। তার বলে দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী নেপালি তরুণেরা গত বৃহস্পতিবার মোমেনাকে নিয়ে হাজির হন পলাশবাড়ীর বৈরী হরিণমারী গ্রামে তার স্বামী আব্দুল কদ্দুস আলীর বাড়িতে। কিন্তু বর্তমান স্ত্রীর সম্মতি না থাকায় মোমেনাকে ফিরিয়ে দেন তার স্বামী। পরে মোমেনা বেগমকে নিয়ে আসা হয় তার বাবার বাড়ি গোবিন্দগঞ্জের কামারদহ ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামে। সন্তান-স্বজনেরা মোমেনাকে ফিরে পেলে সেখানে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাকে ফিরিয়ে দেওয়ায় সন্তানেরা নেপালি মানবসেবা আশ্রমের কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মণ জানান, মোমেনার মা-বাবা মারা গেছেন। যেহেতু তিনি এখন অসহায় ও দুস্থ, তাই তাকে পুনর্বাসন করা হবে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান বলেন, অসহায় এই নারীকে জমি দিয়ে তার বাড়িঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।