হোসনেয়ারা খাতুন
সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে বড় বড় রোগ থেকে মুক্তি পেতে আমরা হাসপাতালে যাই। ডাক্তারদের আমরা শ্রদ্ধা করি এবং আল্লাহর পরে জীবন রক্ষায় ভরসা করে থাকি। করোনার এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হওয়ায় বাসায় এসে বন্দি হয়েছি। ভেবেছিলাম এই সময়ে হাসপাতাল-স্টাফদের আচরণ হয়তো পালটে গিয়েছে। কিন্তু নাহ, আচরণের পরিবর্তন নেই।
হাসপাতাল বা ক্লিনিকে কেউ শখ করে যান না। বিপদে পড়েই হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। অনেকদিন পর হাসপাতালে গিয়েছিলাম আমার হাত ভেঙে যাওয়ায়। হাত ব্যন্ডেজ করার পর ডাক্তার আমাকে ইমার্জেন্সি থেকে পাঠিয়ে দিলেন টিকিট কাউন্টারে কিছু ওষুধ নেওয়ার জন্য। আমি লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম ৩০ মিনিট, টিকিট নেওয়ার জন্য। আমার পালা এলো। টিকিট নেওয়ার জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্য ৩ টাকা দিই। কিন্তু টিকিট কাউন্টারে কর্মরত ব্যক্তি আমাকে টিকিট না দিয়ে একরকম তাড়িয়ে দিলেন। আমার মাস্ক পরা নাই সেজন্য। কিন্তু আমি বোরখা পরা, হিজাব দিয়ে নাক-মুখ ঢাকা। তবু আমাকে মাস্ক নিয়ে এসে তারপর টিকিট নিতে হয়। হিজাবের ওপর আমি মাস্ক পরেছিলাম, কিন্তু তাতেও হবে না। সেসব খুলে মাস্ক পরে আমাকে টিকিট নিতে হয়েছে!
আরো অবাক হয়েছি একজন বৃদ্ধ মহিলার সঙ্গে আচরণ দেখে। বৃদ্ধ মহিলার সম্ভবত চোখের সমস্যা ছিল। আমি যতক্ষণ দেখেছিলাম তাঁর এক চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল। বেচারি তাঁর নিজের একটা টিকিটের জন্য ১০ টাকার নোট দেন। কর্মরত ব্যক্তি ৫ টাকা ফেরত দেন। মহিলা বলেন, ‘বাজান আরো ২ টাকা দাও।’ তিনি ঐ বৃদ্ধাকে উচ্চস্বরে বকা দিয়ে টিকিট নিয়ে নেন এবং ১০ টাকাই ফেরত দিয়ে বলেন, ‘বের হ, বের হ এখান থেকে, তোকে টিকিট দিব না। পারলে ভাংতি করে নিয়ে আয়। না হলে আর আসবি না।’
বৃদ্ধ হয়ে গেলে অনেক সন্তান বাবা-মাকে দেখতে চান না। রোগ-শোকে খবর নেন না। এরকম পরিস্থিতিতে তাঁদের একমাত্র আস্থার জায়গা সরকারি হাসপাতালগুলো। কিন্তু কর্মীদের আচরণ খুবই অসহনীয়।
তাই কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি— রোগীদের সঙ্গে আচরণ সহনীয় ও মানবিক হওয়ার জন্য।
কুষ্টিয়া