দুর্ভোগে যাত্রীরা
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী নদীতে ফেরি পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। এখানে ছোট আকারের একটি মাত্র ফেরি রয়েছে। যা দিয়ে প্রয়োজন মেটে না। নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় বর্তমানে এই ফেরিটিও চলাচলের সময় সমস্যায় পড়ছে। যানবাহন নিয়ে প্রায়ই ফেরিটি নদীর মধ্যে আটকে যায়। তাছাড়া নদীতে জোয়ার ভাটার সময় পন্টুনের সঙ্গে গ্যাংওয়ের সংযোগের সমন্বয় থাকে না। জোয়ারের সময় গ্যাংওয়ে পানিতে ডুবে যায়। আবার ভাটার সময় পন্টুন নেমে গিয়ে গ্যাংওয়ের সঙ্গে সংযোগটি অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে যায়। এই অবস্থায় যানবাহন ও যাত্রী ওঠানামার সময় প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেরিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফেরিটির অবস্থান রাইখালী-বান্দরবান সড়কের কর্ণফুলী নদীতে। এর এক পাশে কাপ্তাইয়ের রাইখালী ও অন্যপাশে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা। রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের তত্ত্বাধানে ফেরি পরিচালিত হয়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই পথে ফেরি পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হয়। প্রতিদিন উভয় পাড়ে শত শত পণ্যবাহী যান ও যাত্রীবাহী গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় থাকে।
ট্রাকচালক নুরুল আমিন ও অন্যান্য কয়েক জন জানান, নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ফেরিতে পারপার বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। গত মাসে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক পারাপারের সময় ফেরি থেকে নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। ফেরির চালক অংসী মার্মা ও সাজাই মার্মা জানান, ইজারাদারের মাধ্যমে ফেরি পরিচালিত হয়। তাদের ইঙ্গিত নিয়েই ফেরির ইঞ্জিন চালাই। নদীতে জেগে ওঠা চর এবং ঘন ঘন ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ার কারণে পারাপার বিঘ্নিত হয়। ইজারাদার মোহাম্মদ হোসেন তালুকদার জানান, পারাপারে টোল আদায় করি মাত্র। দুরবস্থার কারণে ফেরির ইজারায় লোকসান যাচ্ছে। ফেরির পন্টুনসহ অন্যান্য সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের। ফেরিতে দায়িত্বরত রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের কার্যসহকারী মোহাম্মদ কামল উদ্দিন বলেন, শীতের মৌসুমে নদীতে নাব্য হ্রাস পায়। বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। এতে ফেরি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি জানান, ছোট আকারের ফেরি দিয়ে অনেক বেশি সংখ্যক যানবাহন পারপার করতে হচ্ছে। অধিক ধারণ ক্ষমতার বড় আকারের ফেরির জন্য বারবার কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাকুসুদুর রহমান বলেন, শীতের মৌসুমে ফেরিতে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ে। এ সময়ে নদীতে নাব্য হ্রাসসহ নানা জটিলতায় সাময়িকভাবে প্রতিকূলতা দেখা দেয়। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের পরে চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী ফেরি ঘাটের প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ করা হবে।