জয়তু ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাক ৬৮ বছর পূর্ণ করছে। জন্মদিনে পত্রিকাটিকে শুভ জন্মদিন জানাচ্ছি। পত্রিকাটি প্রায় সাত দশকেই অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে। বাংলাদেশ হয়ে ওঠার পেছনে ষাটের দশকে সম্পাদক মানিক মিয়ার অনন্যসাধারণ অবদান আমরা এখনো সকৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। তবে মানিক মিয়া কোনো দিনই আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বড় ভাই হিসেবে বড় মাপের উপদেষ্টা ছিলেন। জানা কথা, ’৬৬-র ফেব্রুয়ারিতে লাহোরে বঙ্গবন্ধুর যাওয়ার কথা ছিল। কারণ বঙ্গবন্ধু আইয়ুব বিরোধিতার চাইতে বাঙালির মুক্তির দিকেই মনোনিবেশ করেছিলেন। তার প্রস্তাবে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে শাহ আজিজের যাওয়ার কথা ছিল। মানিক মিয়া বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, শাহ আজিজ কখনই নির্ভরযোগ্য নয়। কাজেই তুমি তোমার বক্তব্য টুকে নিয়ে লাহোর যাও এবং বল। বঙ্গবন্ধু বিনা বাক্যব্যয়ে এই উপদেশ গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু লাহোর গিয়েছিলেন বলে আমরা ৬ দফা পেয়েছিলাম। বাঙালির মুক্তি নিশ্চিত হয়েছিল। কাজেই বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে মানিক মিয়া ছিলেন এক কেন্দ্রীয় চরিত্র। কিন্তু আড়ালে। মানিক মিয়ার পরামর্শ কতটুকু কার্যকর হয়েছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায় বঙ্গবন্ধুর জবানিতে। তিনি আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীকে বলেছিলেন, আমি লাহোরে গিয়ে দাবি পেশ করব। মানলে ভালো নইলে আন্দোলন। লড়াই। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু যেভাবে বলেছিলেন ঠিক সেভাবেই পরবর্তী সময়ের ইতিহাস আবর্তিত হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশের বাংলাদেশ হয়ে ওঠার ইতিহাস প্রত্যক্ষ করেই মানিক মিয়াকে আমরা স্মরণ করতে বাধ্য।

এই মানিক মিয়ার পত্রিকা ইত্তেফাক। এই পত্রিকার কাছে বাঙালির অশেষ ঋণ। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা জনগণের কাছে পৌঁছানোর ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিল ইত্তেফাক। সেই ইত্তেফাক ৬৮ বছর পূরণ করছে তা আমাদের আ্ত্ততৃপ্তির কারণ। জয়তু ইত্তেফাক।

 

লেখক : ইতিহাসবিদ।

প্রচ্ছদ : শিল্পী অভিজিত্ চৌধুরী