অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেকে অনুপ্রাণিত করে জ্ঞান আহরণ ও মুক্ত ভাবনা প্রকাশের ক্ষেত্রে পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন তরুণ লেখকের হাতেখড়ি ও লেখক হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার অন্যতম মাধ্যম পত্রিকা। নিজেদের অব্যক্ত কথা বা সামাজিক নানা বিষয়ে তরুণদের ভাবনার অন্যতম পথিকৃত্ হিসেবেও কাজ করে পত্রিকা। তরুণ কণ্ঠের এমনই এক বিশ্বস্ত জায়গার নাম ইত্তেফাক। তরুণ প্রজন্মের কাছে ইত্তেফাক যেমন ঐতিহ্যের অংশ, তেমনি এক ভরসার নাম।
ইত্তেফাক তার প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে এসেছে। দেশের মুক্তির বিপ্লবে মুখপত্রের ভূমিকায় যেমন সক্রিয় ছিল ইত্তেফাক, তেমনি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার জন্য পূর্বশর্ত। সাংস্কৃতিক বিপ্লবেও নেতৃত্ব দেওয়ার বিশাল ভার ইত্তেফাক বহন করে। সত্য, ন্যায়, গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের মানুষের অধিকারের প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থানে ইত্তেফাক। দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, পাঠকদের আস্থা ও সীমাহীন ভালোবাসায় ইত্তেফাক প্রতিষ্ঠার ৬৭ বছর অতিক্রম করেছে। এই দীর্ঘ জয়যাত্রায় ইত্তেফাকের একজন তরুণ লেখক ও পাঠক হিসেবে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করছি। সেই সঙ্গে ইত্তেফাকের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও অভিজাত সম্পাদকীয় নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার বছর সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করুক সেই কামনা করি।
প্রতিটি দেশের ভবিষ্যত্ মানেই তরুণ প্রজন্ম। দেশের উন্নয়নের যাত্রায় তরুণ সমাজের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তরুণদের ছাড়া যেমন দেশ স্বাধীন হওয়া সম্ভব ছিল না, ঠিক তেমনি ভবিষ্যতে দেশকে বিশ্বে আসীন করার জন্য সামর্থ্যবান তরুণ প্রজন্ম গড়ার বিকল্প নেই। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ও নেতৃত্ব নিশ্চিতকরণে এক একটি হাতিয়ার হিসেবে তরুণ প্রজন্মকে আরো সমৃদ্ধ করতে ইত্তেফাক প্রতিনিয়ত অবিস্মরণীয় অবদান রাখছে।
ব্যক্তিগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে বা পরে আমি যে লিখতে পারি বা লেখালেখিতে আমার কোনো ধরনের আগ্রহ আছে সেটা অনুভব করিনি। সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া একটা বিষয়ে লেখার পর যখন ইত্তেফাকে আমার প্রথম লেখাটি ছাপা হয়েছিল, সেদিনই লেখালেখির জন্য নিজের মধ্যে হাজার বছরের অনুপ্রেরণা সঞ্চারিত হয়েছিল। এভাবেই ইত্তেফাক আমার মতো প্রতিনিয়ত অনেক তরুণ শিক্ষার্থীকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। একাডেমিক পরিচয়ের বাইরেও একজন শিক্ষার্থীকে লেখক হিসেবে জনসম্মুখে আসার সাহস জোগায়। এছাড়া সমাজ পরিবর্তনে ইত্তেফাক শিক্ষার্থীদের জন্য কলমের শক্তি প্রয়োগের অন্যতম একটি প্ল্যাটফরম।
বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির বদৌলতে তরুণ প্রজন্ম অনেকটা ইন্টারনেট-কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। শুধু তরুণ প্রজন্ম নয়, ছোট-বড় সবারই ইন্টারনেট-নির্ভরতা বেড়েছে। আগের তরুণ প্রজন্মের মানসিক বিকাশ ও বিনোদনের সঙ্গী ছিল প্রকৃতি। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রকৃতির জায়গায় প্রযুক্তি হয়েছে তার প্রাত্যহিক সঙ্গী। ফলে খবরের কাগজের পরিবর্তে এখন ই-পেপার বা অনলাইন ভার্সনের ব্যবহার বেড়েছে। আগে পত্রিকা সংগ্রহ করতে না পারলে দেশ-বিদেশের খবর জানা যেত না। কিন্তু বর্তমানে পত্রিকা সংগ্রহের জন্য আর হয়রান হতে হায় না। তাছাড়া ইন্টারনেট আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা করোনার সময়ে আমরা কম-বেশি সবাই একটু হলেও উপলব্ধি করতে পেরেছি। বর্তমানে মানুষ যেহেতু ইন্টারনেটে পত্রিকা পড়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে, সেহেতু তরুণ প্রজন্মের জন্য ইত্তেফাক অনলাইন কেন্দ্রিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিতে পারে। অনেক সময় অস্থিতিশীল শিক্ষাব্যবস্থা এবং যথাযথ প্ল্যাটফরমের অভাবে তরুণদের মধ্যে লেখালেখি নিয়ে অনীহা সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে তরুণদের লেখালেখির প্রতি আগ্রহী করার জন্য ইত্তেফাক বিভিন্ন রকম অনলাইন ইভেন্টের আয়োজন করতে পারে।
তরুণদের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী চিন্তাধারার প্রসার সাধনে সহযোগিতা করতে পারে ইত্তেফাক। সেজন্য এমন কিছু ফিচার বা বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের ব্যবস্থা করা উচিত, যা শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি ও প্রযুক্তিবিষয়ক। যেখান থেকে তরুণ সমাজসহ সারা দেশের সব শ্রেণির মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়তে পারে। তরুণ প্রজন্ম কীভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে এ বিষয়ে তথ্য সংবলিত বিভিন্ন ধরনের সংবাদ বা আলাদা পাতার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও গৌরবগাথা তরুণ প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাঝেমধ্যে ইত্তেফাক বিশেষ আয়োজন করতে পারে।
লেখার মাত্রায় নতুনত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের মাধ্যমে ইত্তেফাকের আলো চারদিকে বিস্তরভাবে ছড়িয়ে পড়ুক। সেই সঙ্গে তরুণদের জন্য ইত্তেফাকের খোলা জানালা আরো উন্মুক্ত হোক সেই প্রত্যাশা রাখি এবং আশা করি বর্তমানের সঙ্গে আগামী দিনেও ইত্তেফাকের পাতায় তারুণ্যেরই প্রতিফলন ঘটুক।
লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।