চট্টগ্রামের করোনা ভাইরাস জিনের বিন্যাস উন্মোচন চবি গবেষক দলের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলা থেকে করোনা ভাইরাসের (সার্স-কোভ-২) নমুনা সংগ্রহ করে প্রথম বারের মতো চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলার করোনা ভাইরাসের জিনের বিন্যাস উন্মোচন (জিনোম সিকোয়েন্সিং) করেছেন। পুরো গবেষণা কর্মটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জীব বিজ্ঞান অনুষদ ও বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ল্যাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ গবেষণা কাজ গত জুলাই মাসে প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছিল।

গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক ও ড. এইচ এম. আবদুল্লাহ আল মাসুদ।

গবেষণার বিষয়ে অধ্যাপক ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলার করোনা ভাইরাসের জেনোমের বিন্যাস তুলে ধরার জন্য। চেয়েছিলাম গবেষণাটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে সম্পন্ন করার জন্য। যার মাধ্যমে বোঝা যায় যে, প্রত্যেক জেলায় এ ভাইরাসটি কোন দেশ থেকে এসেছে বা কোন দেশের সঙ্গে মিল আছে এবং চিনের উহানের প্রথম ভাইরাসের সঙ্গে ও যুক্তরাজ্যের নতুন করোনা ভাইরাসের সঙ্গে কি ধরনের মিল বা পার্থক্য আছে।

তিনি আরো বলেন, এ ভাইরাসের জেনোম ডাটা গ্লোবাল ডাটা বেইজে যুক্ত হওয়ায় যারা এ ভাইরাস নিয়ে যারা গবেষণা করেছে তারা এ ডাটা আমাদের ডাটা ব্যবহার করলে উপকৃত হবেন। 

জানা যায়, এই গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল চট্টগ্রাম বিভাগের কোভিড-১৯ এর ওপর সার্বিক চিত্র তুলে ধরা, সে লক্ষে তারা প্রত্যেকটি জেলার প্রত্যেক উপজেলা থেকে কোভিড পজিটিভ রোগীর নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তারপর, আরএনএ এর পরিমাণ ও গুণের ওপর ভিত্তি করে ৪৬টি নমুনা জিনোম সিকোয়েনসিং এর জন্য নির্বাচন করেন। যার মধ্যে ৩৩টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স ৯৯ শতাংশের ওপরে উন্মোচিত হয়েছে। ইতিমধ্যে ১২টি নমুনার জিনের বিন্যাস গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা বেইসে জমা দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন: ঘর পেলেন প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয় প্রকল্পে ৮০ শতক জমি দানকারী ঝুরমান বেওয়া

গবেষকরা জানান, কিছু প্রশ্নকে সামনে রেখে তাদের এই গবেষণা কাজ সাজানো হয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো চট্টগ্রামে ভাইরাসটি সম্ভাব্য কোন পথে প্রবেশ করে থাকতে পারে এবং এর মিউটেশন সম্পর্কে জানা। প্রাথমিকভাবে ৩০টি জিনোম বিন্যাস বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে তারা ধারণা পাচ্ছেন, চট্টগ্রাম বিভাগের ভাইরাসটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, সৌদি আরব, তাইওয়ান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ভাইরাসের সাদৃশ্য রয়েছে। প্রত্যেক জেলার ডাটা পৃথকভাবে পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে এর মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা আছে। যেমন চট্টগ্রাম জেলায় যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইটালি, চেক রিপাবলিক, সৌদি আরব ও তাইওয়ান; নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলায় যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপান; কুমিল্লা ও চাঁদপুরে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, চেক রিপাবলিক, ভারত ও জাপান; ব্রাহ্মণবাড়ীয়াতে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, সৌদি আরব ও ভারত; কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবানে যুক্তরাষ্ট্র, সিয়েরা লিওন, জার্মানি, ইটালি, তাইওয়ান ও চেক রিপাবলিক; এবং খাগড়াছড়িতে অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব ও তাইওয়ান এর নমুনার সঙ্গে সাদৃশ্য বেশি লক্ষ্য করা গেছে। 

গবেষকরা আরও জানান, গবেষণায় প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে যে, সব সিকোয়েন্সের বিভিন্ন লোকেশনে সর্বমোট ১২৬টি ভিন্ন ভিন্ন মিউটেশন হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন জিনের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় মোট ৮৬টি নিউক্লিওটাইড পরিবর্তন হলেও অ্যামিনো এসিডে কোন পরিবর্তন হয়নি। সবগুলো মিউটেশন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ৫টি মিউটেশন চট্টগ্রামে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে।

ইত্তেফাক/এসি