চকরিয়ার মানিকপুর

সম্ভাবনাময় নতুন পর্যটনকেন্দ্র

এম এইচ আরমান চৌধুরী, চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

চকরিয়ার মানিকপুর সম্ভাবনাময় নতুন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে দেখা দিচ্ছে। পাহাড়ের সঙ্গে নদীর মিতালিতে অপরূপ মানিকপুরকে ঘিরে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের উজ্জ্বল সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। একদিকে পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য অন্যদিকে পাহাড়ের নিচে বয়ে চলা মাতামুহুরী নদীর বিশাল জলরাশি গোধূলি বেলায় ভ্রমণ পিপাসুদের বিমুগ্ধ করছে। পাহাড় ও নদীর এই মিতালি উপভোগ করতে এবং প্রকৃতির অপরূপ সান্নিধ্য পেতে এখন প্রতিদিনই মানিকপুরে ছুটে যাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। এদিকে, ২২ ডিসেম্বর চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের আহ্বানে মানিকপুর পর্যটন জোনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নতুন পর্যটন জোনের অপরূপ লোকেশন দেখতে আসেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক গুলশান আরা। এ সময় সঙ্গে ছিলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ ও চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন।

সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, ‘অপরূপ মানিকপুরকে ঘিরে নতুন পর্যটন জোনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় গত অক্টোবর মাসে মানিকপুর পর্যটন স্পট পরিদর্শনে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। পরে বিষয়টি আমি চকরিয়া উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করি এবং মানিকপুরকে পর্যটনকেন্দ্র বা পর্যটন জোন ঘোষণার দাবি জানাই। সভায় উপস্থিত সবার মতামতের ভিত্তিতে ইউএনও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নকে নতুন পর্যটন জোন হিসেবে ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি আগামী দুই মাসের মধ্যে সুরাজপুর-মানিকপুরকে পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ উপযোগী করার আশ্বাস দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে পর্যটন জোনের আধুনিকায়নে কাজ শুরু করেছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ বলেন, ‘মানিকপুরের পর্যটন জোনকে সত্যিকার অর্থে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আমরা সম্প্রতি পর্যটন জোনের উন্নয়নে কাজ শুরু করেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বিশেষ আহ্বানে মানিকপুর পর্যটন জোনের সার্বিক কার্যক্রম দেখতে এসে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক গুলশান আরা পর্যটন জোনের প্রতিটি স্পট ঘুরে দেখেছেন। আশা করি সবার সহযোগিতা থাকলে আমরা নতুন এই পর্যটন জোনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারব।’