আসছে আরেকটি নতুন বছর ২০২১। নতুন বছর বরণ-উদ্যাপনের পাশাপাশি তাকিয়ে দেখার সময় প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ও প্রত্যাশায় মিলিয়ে যাওয়া গেল বছর। ২০২০ সালের নানা অপূর্ণতার গ্লানি মুছে নতুন
সমৃদ্ধি আর অগ্রযাত্রার ঢেউ নিয়ে আসুক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। এমনটাই প্রত্যাশা তরুণ সমাজের। এমনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন তরুণদের কথা জানাচ্ছেন— এ বি এস ফরহাদ
রওশন আক্তার, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
২০২০ সাল আজ আমাকে নতুন পরিচয়ে পরিচয় করিয়েছে। সরকারি ভার্সিটিতে পড়ার স্বপ্ন কে না দেখে। আমিও দেখেছি। আর আজ তা সফল। এই প্রাপ্তি আমার জীবনকে দিয়েছে নতুন পরিচয়। হঠাত্ করোনা ভাইরাস এসে সারা বিশ্বকে থমকে দিয়েছে। ভার্সিটিতে উঠে ভার্সিটির আনন্দ, প্রাপ্তি, নতুন কিছু শিখা আর হলো না। তবে প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি কম নয়। আজ সেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু শুধু স্বপ্নেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। এই করোনার মাঝেও আমরা পেয়েছি সেই স্বাদ, যা এত মধুরভাবে পাওয়া কখনো সম্ভব হবে না—পারিবারিক বন্ধনের স্বাদ। শত অপ্রাপ্তির মাঝেও আমাদের প্রাপ্তির কিন্তু কখনোই কমতি ছিল না, আর না কখনো থাকবে। এই বিশ্বাসে ভরে উঠুক সারা বাংলাদেশ।
নাবিলা নুহাশ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
২০২০ সালের শুরুতে মনে হয়েছিল এ বছরটা অনেক প্রাপ্তিতে ভরপুর হয়ে উঠবে। মহামারির আঘাতে মার্চের বন্ধটাও দুই-তিন মাসের বেশি স্থায়ী হবে—সেটা স্বপ্নেও ভাবিনি। স্নাতক শেষ করে পরিবারকে আশার আলো দেখানো কিংবা পড়াশোনার অগ্রগতি—কোনোটাই হলো না। বরং হারিয়ে ফেলেছি অনেকগুলো প্রিয় মুখ। দুশ্চিন্তা আর হতাশায় জীবন ম্লান হয়ে গেছে অনেকখানি। তবে প্রাপ্তি বলতে বলব, ধৈর্য ধরার শক্তিটা বেড়েছে। পরিবার ও সমাজকে সঙ্গে নিয়ে এই লড়াইয়ে শিখেছি অন্যরকম জীবন-দক্ষতা। জীবন কঠিন, একটা যুদ্ধক্ষেত্র। শেষের পথে এই শূন্যতায় ভরা ২০২০। নিশ্চিত নই, তবে আশা করি, জীবন কিছুটা আগের গতিতে ফিরবে। আমরাও ফিরে পাব মানসিক শান্তি ও স্বস্তি।