সেচ সংকটে কৃষক
মোহাম্মদ ইলিয়াছ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
লোহাগাড়া উপজেলায় দখল, ভরাট ও নাব্য সংকটে বিভিন্ন ইউনিয়নে হারিয়ে যাচ্ছে খাল ও ছড়া। পানি কমে যাওয়ায় কৃষক ও জেলেসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর তেমন উপকারে আসছে না এসব খাল ও ছড়া। পানির অভাবে আমন, বোরোসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকাবাসী।
জানা গেছে, লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ১৩টি খালসহ বিভিন্ন নালা। ডলু, টংকা, হাঙ্গর, চাম্বি, হাতিয়ার, জামছড়ি, রাতার, কুলপাগলি, থমথমিয়া, সুখছড়ি, ধুইল্লা, সরই, বোয়ালিয়া খালসহ বিভিন্ন ছড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে প্রবাহিত হচ্ছে। আর ডলু, টংকা ও হাঙ্গর উপজেলার অন্যতম খাল। এক সময় ডলু-টংকা-হাঙ্গর খালসহ অন্যান্য খাল দিয়ে বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলের গাছ-বাঁশ ও মালামাল এবং বাঁশের ভেলায় বিভিন্ন পণ্য বিভিন্ন স্থানে যেত। খাল-ছড়া থেকে মত্স্য আহরণ করে শত শত জেলে পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। এমনকি এসব খাল-ছড়ার তীরবর্তী ৩৫টি গ্রামের ৪০ হাজার পরিবার কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কিছু খাল-ছড়ার অস্তিত্ব ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। ডলু-টংকাসহ প্রধান খালগুলোর অধিকাংশ স্থান ভরাট হয়ে শুকিয়ে গেছে। চাষিরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে প্রথম দিকে খালের পানি দিয়ে বীজতলা ও বোরো-রবি আবাদ করা গেলেও পরে সেচ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, লোহাগাড়ার খাল-ছড়াগুলোর দুই পাশে দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। কৃষক ও এলাকাবাসীর উপকারের জন্য খালগুলো খনন, পুনরুদ্ধার ও সংস্কার প্রয়োজন। খালগুলো সংস্কার হলে পানির ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং লাভবান হবেন কৃষক। আর শুষ্ক মৌসুমে বোরো চাষসহ বিভিন্ন রবিশস্য আবাদের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আহসান হাবিব জিতু বলেন, খাল ও ছড়াগুলো ভরাটের ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রস্তাব পেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পর্যায়ক্রমে খাল ও ছড়া খননের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।