সম্ভ্রম বাঁচাতে চলন্ত বাস থেকে কলেজছাত্রীর লাফ

তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা, সিলেট-সুনামগঞ্জ দিরাইয়ে মানববন্ধন

শনিবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় চলন্ত বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল রবিবার সিলেট, দিরাই ও সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে। শনিবার রাতেই ঐ কলেজছাত্রীর বাবা দিরাই থানায় অজ্ঞাতনামা তিন জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তবে গতকাল দুপুর পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে সুনামগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এদিকে ভিকটিমকে রবিবার ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তর করা হয়। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, মেয়েটি হাতে ও মাথায় আঘাত পেয়েছে। তার মাথার সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। সেখানে মারাত্মক কিছু পাওয়া যায়নি। তবে মেয়েটি মানসিকভাবে এখনো শক্ত আছে।

একাধিকবার চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে বাসচালক শহীদ

হাসপাতালে চিকিত্সাধীন কলেজছাত্রী পুলিশকে জানান, বাসে চালক, কন্ডাক্টর ও হেলপার ছিল। হেলপারকে বাস চালাতে দিয়ে চালক শহীদ ও কন্ডাক্টর তাকে একাধিকবার চুলে ধরে টানাহেঁচড়া করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। শহীদ তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করে। তরুণী বাঁচার জন্য চলন্ত বাস থেকে বার বার লাফ দেওয়ার চেষ্টা করলেও বাধ সাধে চালক ও কন্ডাক্টর। শহীদ বার বার ভিকটিমকে জোর করে দরজার মুখ থেকে বাসের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার জন্য টানাহেঁচড়া করে। এক পর্যায়ে তরুণী সম্ভ্রম বাঁচাতে জানালা দিয়ে লাফিয়ে রাস্তায় পড়েন। তখন বাসটি দ্রুতগতিতে চলে যায়।

মেয়েটির বাবা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ফাহাদ অ্যান্ড মাইশা পরিবহনের একটি বাসে দিরাই যাচ্ছিল তার মেয়ে। দিরাই পৌরসভার সুজানগর এলাকায় পৌঁছার পর বাকি যাত্রীরা নেমে গেলে বাস ফাঁকা হয়ে যায়। এ সময় বাসের চালক ও হেলপার তাকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে দুই জন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে আত্মরক্ষার্থে চলন্ত বাস থেকে লাফ দেয় তার মেয়ে। এতে সড়কের পাশে পড়ে আহত হয় সে।

প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন

চলন্ত বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল সিলেট, সুনামগঞ্জ ও দিরাইয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে। সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে মানববন্ধনের আয়োজন করে নির্যাতন ও ধর্ষণ প্রতিরোধ কমিটি নামে একটি সামাজিক সংগঠন। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, যুব ইউনিয়নের সভাপতি আবু  তাহের প্রমুখ।

রবিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। পরে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, চলন্ত বাসে ছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এ বিষয়ে মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি, দ্রুতই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে আমরা সক্ষম হব।

শনিবার বিকালে সিলেটের লামাকাজিতে অবস্থিত বোনের বাড়ি থেকে বাসে একা দিরাইয়ে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন ঐ কলেজছাত্রী। দিরাই মদনপুর সড়কের সুজানগর এলাকায় ফাঁকা বাসে চালক, কন্ডাক্টর ও হেলপার ঐ কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। সম্ভ্রম বাঁচাতে বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। গ্রামের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মেয়েটিকে উন্নত চিকিত্সার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।