আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপির আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকেছে বলেই নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণের আগেই তারা হেরে যায়। গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপির রাজনীতিকে কচ্ছপের সঙ্গে তুলনা করে আরো বলেন, তারা (বিএনপি) একবার মাথা বের করে, পরক্ষণেই আবার মাথা লুকিয়ে নেয়।
‘সরকার বিভিন্ন মামলার রায়ে আদালতকে ব্যবহার করছে’ মর্মে বিএনপির নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রকৃতপক্ষে দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে, উচ্চ ও নিম্ন আদালতে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে বলেই সরকার বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে না, বরং আইন-আদালতকে ঘিরে বিএনপিই দ্বিচারিতার আশ্রয় নেয়। তারা মামলায় জিতলে বলে বিচার বিভাগ স্বাধীন আর হারলে বলে সরকার হস্তক্ষেপ করেছে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছিল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত ও বাধাগ্রস্ত করতে এবং গণতন্ত্রকে সংকটে ফেলতে চেয়েছিল। সেতুমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে সরকার গঠন করার সুযোগ দিয়েছিল বলেই সমগ্র বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনের পথে অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ‘সরকার দেশকে বিএনপি-শূন্য করতে চায়’—দলটির এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, এই অভিযোগ অবান্তর। সরকার বিএপিকে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকায় দেখতে চায়। তিনি বলেন, দেশের জনগণও চায় বিএনপি মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াক। জনগণ চায় তারা স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতা ছেড়ে দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনায় রাজনীতি করুক। বিরোধী দল শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় গুণগত পরিবর্তন আসে বলেও জানান তিনি।