ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সরকারি জায়গায় দোকান বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। এসময় মানববন্ধন শেষে হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। অবরোধের কারণে রাস্তার দুই প্রান্তে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয়।
সোমবার সকালে পূর্ব নির্ধারিত ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন কর্মসূচিতে সকাল হতেই হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ভাঙ্গা বাজারের প্রবেশদ্বার থানা রোডে অবস্থান নেয়। কড়া পুলিশি পাহারায় বেলা ১১টায় ব্যবসায়ীরা হাতে হাত রেখে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করে অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন মিয়ার অপসারণসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর রহমান, ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহিন, ভাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহা্জ আবু জাফর মুন্সি, সরকারি ভাঙ্গা কেএম কলেজের সাবেক ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা লাবলু মুন্সি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মুন্সি, ঘারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিউদ্দিন মোল্লা, আলগী ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ম.ম. ছিদ্দিক, পৌর কাউন্সিলর ওমর ফারুক হবি ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা প্রমুখ।
আরো পড়ুন: দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে গাড়িবহর ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওনা
উল্লেখ্য, ভাঙ্গা বাজারের প্রাণকেন্দ্রে ৫৫ নং সদরদী মৌজার এসএ, দাগনং ৪২৩,৪২৪ ও বিএস দাগ নং ১৮৫২,১৮৫৩, ১নং খাস খতিয়ানে ৬২ শতাংশ জমি রয়েছে। এই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গা ঈদগাহ মাদরাসা ও এতিম খানার নামে ১০টি দোকান ঘর বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা করে আসছিলো। নতুন করে তাদের বরাদ্দ না দিয়ে গত সপ্তাহে মাইকিং করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দোকানগুলো বুল ড্রেজার দিয়ে ভেঙে দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে মালামাল কোন রকমে সরিয়ে নেয়। এরপর দিন রাতারাতি সমস্ত জায়গাটিতে বালু দিয়ে ভরাট করে দোকান ঘর বরাদ্দ জন্য প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কাছ হতে আবেদন গ্রহণ করে। প্রশাসনের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রায় ৫ হাজারের উপরে ব্যবসায়ীরা আবেদন করেন। গত বুধবার দিনভর প্রশাসনের পক্ষ হতে ৮১ জনের নামে দোকান বরাদ্দ দিয়ে পজিশন বুঝিয়ে দেন এসিল্যান্ড। দোকান বরাদ্দ প্রকৃত ব্যবসায়ীদের না দিয়ে তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের গোপনে বরাদ্দ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ব্যবসায়ীরা।
গত বৃহস্পতিবার সকালে বরাদ্দ পাওয়া ঐসব ব্যবসায়ীরা দোকান ঘর তুলতে গেলে হাজারো ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তারা এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যর অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবিতে মিছিল দিয়ে এসিল্যান্ড অফিস ঘেরাও করে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের দপ্তরে পৌঁছালে তার নির্দেশনায় ডিডিএলজি এস.এম মনিরুজ্জামান বৃহস্পতিবার দুপুরে এসে বরাদ্দকৃত দোকান ঘর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
ইত্তেফাক/এএএম